নিউজ ডেস্ক | নয়াদিল্লি | ১ জুন ২০২৫
সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক গোপন সংস্থার সন্দেহজনক তৎপরতার খবর মেলে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক তথ্য পাকিস্তান ভিত্তিক গুপ্তচরচক্রের হাতে পাচার হচ্ছে— এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে গোয়েন্দা সূত্রে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ২০ মে ২০২৫ এনআইএ একটি মামলা দায়ের করে এবং তদন্তে নেমে পড়ে। তারই অংশ হিসেবে শনিবার, ৩১ মে, দেশের ৮টি রাজ্যে সমন্বিত অভিযান চালায় এনআইএ।
শনিবার পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ গুপ্তচরচক্রের বিরুদ্ধে সারা দেশে বড়সড় অভিযান চালাল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। দেশের মোট ৮টি রাজ্যে ১৫টি স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও আর্থিক নথিপত্র।
অভিযান চালানো হয়েছে: দিল্লি, হরিয়ানা, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, অসম, (অন্য একটি অপ্রকাশিত রাজ্য)
NIA-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে: অভিযুক্তরা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার (ISI) এজেন্টদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখত। তাদের কাছে গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য পাঠানো হত। তার বিনিময়ে নানা উপায়ে অর্থ লেনদেন হত, যার উৎস এবং গন্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
NIA গত ২০ মে ২০২৫ এই মামলাটি রুজু করে। তদন্ত চলছে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, শাসন গোপনীয়তা আইন (Official Secrets Act) এবং UAPA (Unlawful Activities Prevention Act) অনুযায়ী।
তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে:মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস, সন্দেহভাজন আর্থিক লেনদেনের দলিল
NIA জানিয়েছে: “এই চক্রটি ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিল। আমরা দুষ্কৃতিদের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি সংযোগের প্রমাণ জোগাড় করছি।”
এই ধরনের চক্র দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পক্ষে বড় হুমকি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
এই তদন্ত সফল হলে, ভারতীয় ভূখণ্ডে চলা বহু গোপন তথ্য পাচারকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়তে পারে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের জিরো টলারেন্স পদক্ষেপ প্রশংসনীয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ নাগরিকেরা। NIA জানিয়েছে, এই তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও তল্লাশি চালানো হবে।