আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করবেন শুভশ্রী গাঙ্গুলী; নাড়ুগোপাল মুখার্জির ব্যক্তিগত উদ্যোগে হচ্ছে এই পুজো
নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: দীর্ঘ ২৫ বছরের বিরতির পর এবার দুর্গাপূজায় নতুন চমক নিয়ে আসছে বহরমপুর। শহরের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘীর জলের ওপর তৈরি হচ্ছে দিল্লির বিখ্যাত লোটাস টেম্পলের আদলে এক বিশাল পূজামণ্ডপ। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি গ্রহণ করেছেন বহরমপুর পৌরসভার পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখার্জি, যা শহরের মানুষকে আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দিয়েছে।
একসময় বহরমপুরের লালদিঘির জলের ওপর দুর্গাপূজার মণ্ডপ তৈরি হতো। প্রায় ২৫ বছর আগে এখানে বিখ্যাত ‘টাইটানিক’ জাহাজের আদলে মণ্ডপ তৈরি হয়েছিল, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। কিন্তু এরপর নানা সমস্যার কারণে সেই ঐতিহ্য বন্ধ হয়ে যায়। সেই পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে এবং বহরমপুরের মানুষের আবেগকে সম্মান জানাতেই নাড়ুগোপাল মুখার্জি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই পুজোর আয়োজন করেছেন।
নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেন, “বহরমপুরের মানুষের পূজার যে আবেগ, তাকে মান্যতা দেওয়ার জন্য কিছু একটা করার কথা ভাবছিলাম। ২৫ বছর আগে লালদিঘিতে টাইটানিকের আদলে যে মণ্ডপ তৈরি হয়েছিল, তার প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল অসীম। সেই আগ্রহটা আবার ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। লালদিঘী মানেই বহরমপুরের মানুষের আবেগ। বহু মানুষ ছোটবেলায় এখানে ভাসমান মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে এসেছে। এবার সেই স্মৃতিই আবার ফিরছে। এবারের পুজোয় আমরা জেলার মানুষের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা দিতে চাইছি।“
মণ্ডপটি তৈরি করতে দিল্লি লোটাস টেম্পলের আদলে শিল্পী এবং ইঞ্জিনিয়ারদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপ সাজানোর জন্য কৃষ্ণনগর থেকে প্রতিমা আসছে এবং চন্দননগরের বিখ্যাত আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া, মণ্ডপে একটি এলইডি স্ক্রিনও বসানো হচ্ছে। এই পুজোর বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। পুরপ্রধান জানিয়েছেন, এই পুজো কোনো ক্লাব বা কমিটির উদ্যোগে নয়, বরং এটি তার ও তার কয়েকজন বন্ধুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে হচ্ছে এবং এর জন্য কোনো চাঁদা তোলা হচ্ছে না।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এই পুজোর উদ্বোধন করতে আসছেন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী। তার সঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর এবং বিশিষ্ট গুণীজনরাও উপস্থিত থাকবেন।
২০২১ সালে তৃণমূলের হয়ে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের টিকিটের দৌড়ে থাকা নাড়ুগোপালের এই উদ্যোগকে অনেকেই রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সমালোচকরা মনে করছেন, এই পুজোকে সামনে রেখে তিনি বহরমপুরবাসীর মন জয় করতে চাইছেন। যদিও নাড়ুগোপাল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “পুজোর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। এটি মানুষের আবেগের কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে।“