শ্রদ্ধা জানাল রাজ্য সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল
কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মবলিদান দিবস আজ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হলো। ১৯৩২ সালে আজকের দিনেই এই অকুতোভয় নারী দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
কেন এই আত্মবলিদান?
বীর বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের নির্দেশে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রামে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৫ সদস্যের এক বিপ্লবী দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি চট্টগ্রাম শহরের ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমণ করেন। এই ক্লাবটি ব্রিটিশদের জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং এর গায়ে লেখা ছিল ‘কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’। আক্রমণ সফল হলেও ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার উপক্রম হয়। দলের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রীতিলতা ধরা পড়ার আগেই পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মঘাতী হন। তার এই আত্মবলিদান বিপ্লবীদের মনে এক নতুন প্রেরণা জাগিয়েছিল।
এই উপলক্ষে রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কলকাতার ময়দানে প্রীতিলতার মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও, নবান্নেও তাঁর ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রয়াণ বার্ষিকীতে এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কুর্নিশ জানাই এই বাংলার মাটিকে যেখানে এমন বীরাঙ্গনার জন্ম হয়েছিল।” প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছাড়াও তিনি মাতঙ্গিনী হাজরা, কল্পনা দত্ত, বীণা দাশ এবং সুনীতি চৌধুরীর মতো অগ্নিকন্যাদের নাম উল্লেখ করেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি সবসময় মনে করি, বাংলা না থাকলে স্বাধীনতা আন্দোলন জয়ী হত না। বাংলাই স্বাধীনতা আন্দোলনের পীঠস্থান।”