কলকাতা, সেপ্টেম্বর ২৪:
রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশকে গুরুতর অন্যায় আখ্যা দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতোকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজেই পোস্টিং দেওয়ার নির্দেশ দিল। স্বাস্থ্য দপ্তর পূর্ববর্তী নির্দেশে অনিকেতকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল, যা বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু সরাসরি খারিজ করেন।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় দেওয়া পোস্টিং পরিবর্তনের অধিকার স্বাস্থ্য দপ্তরের নেই। রাজ্যের পদক্ষেপে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানায়—অনিকেত মাহাতোকে অবিলম্বে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে যোগদানের সুযোগ দিতে হবে।
অনিকেত মাহাতোর পাশাপাশি জুনিয়র চিকিৎসক দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়া–ও একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, স্বাস্থ্য দপ্তর কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে নির্ধারিত জায়গা থেকে অন্যায়ভাবে বদলি করেছে। যদিও তাঁদের মামলার শুনানি পুজোর পর হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি।
এ বিষয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (WBJDF)-এর দাবি, রাজ্য সরকার ও শাসক দলের আইটি সেলের পক্ষ থেকে ভুল প্রচারণা চালানো হয়েছিল যে, শহরের চিকিৎসকরা নাকি গ্রামীণ এলাকায় কাজ করতে চাইছেন না। কিন্তু আদালতের রায় প্রমাণ করল, এই লড়াই গ্রামীণ সেবার বিরুদ্ধে নয়—ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা রক্ষার সংগ্রাম।
অনিকেত মাহাতো রায়গঞ্জে যোগ দেননি, যাতে সরাসরি আইনি চ্যালেঞ্জ করা যায়। অন্যদিকে, দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়া সৎভাবে যোগ দিয়ে দেখিয়েছেন যে, প্রচারিত অভিযোগ সত্য নয়। তাই তাঁদের মামলা এখনও বিচারাধীন।
WBJDF এক বিবৃতিতে বলেছে, “এটি শুধু তিনজন ডাক্তার নয়, সমগ্র জুনিয়র ডাক্তার সমাজের জয়। এই রায় আমাদের পোস্টিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায় এবং মর্যাদার নিশ্চয়তা দিল।”