অভিনেতা মোহনলাল পেলেন ২০২৩ সালের দাদাসাহেব ফালকে সম্মান, বললেন ‘মোদি যা করছেন তা দেশের জন্য তপস্যা’

 নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর

ভারতের চলচ্চিত্র জগতে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। প্রখ্যাত অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক মোহনলাল-কে ২০২৩ সালের দাদাসাহেব ফালকে সম্মান প্রদান করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। চার দশকেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান হাতে পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন দক্ষিণের এই কিংবদন্তি অভিনেতা।

পুরস্কার গ্রহণের পর এক আবেগঘন মুহূর্তে মোহনলাল বলেন, “মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি গভীর ভাবে সম্মানিত এবং একই সঙ্গে আমি আনন্দিত। আমি এই জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছি, যা আমাকে দেশের কনিষ্ঠতম এবং রাজ্যের মাত্র দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই সম্মানের অধিকারী করেছে। এই মুহূর্তটি শুধু আমার নয়। এটি পুরো মালয়ালম সিনেমা জগতের। আমি এই পুরস্কারকে আমাদের শিল্পের ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা এবং দৃঢ়তার প্রতি একটি সম্মিলিত শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে দেখছি।”

তিনি আরও বলেন, “যখন প্রথম কেন্দ্রের থেকে খবরটা পেয়েছিলাম, তখন আমি কেবল এই সম্মানের জন্য অভিভূত হইনি, বরং আমাদের সিনেমার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, এটাই আমাকে আরও বেশি আনন্দিত করেছে। আমি মনে করি, এটি ভাগ্যের এক আলতো স্পর্শ, যা আমাকে মালয়ালম সিনেমার রূপকার সব শিল্পীর পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করার সুযোগ দিয়েছে। সত্যি বলতে, আমি কখনও এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখার সাহস করিনি।”

তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন—
প্রধানমন্ত্রী যা করছেন, তা দেশের জন্য একপ্রকার ‘তপস্যা’সেই তপস্যারই ফলাফল আমরা পাচ্ছি। আমি বহুবার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছি। তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা রইল।”

মোহনলাল তাঁর 48 বছরের অভিনয়জীবন প্রসঙ্গে বলেন—
“এটা ছিল এক দীর্ঘ সফর। এই যাত্রায় আমার সহকর্মী, পরিচালক, পরিবার, এবং পুরো চলচ্চিত্র জগত আমাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা জানাই দর্শকদের, যাঁদের ভালোবাসা ও স্নেহ ছাড়া আমি আজকের জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না। তাদেরই হাত ধরে আমার শিল্পীজীবন তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন—
“আমি আমার কাজকে ভালোবাসি। আমার প্রতিশ্রুতি আজও একই রকম অটুট। সিনেমা শুধু আমার পেশা নয়, আমার আত্মা, আমার প্রাণ।”

মোহনলাল কেবলমাত্র একজন অভিনেতাই নন, তিনি একাধারে প্রযোজক ও পরিচালকও। চার দশকের ক্যারিয়ারে তিনি মালয়ালম, তামিল, হিন্দি সহ একাধিক ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন এবং অসংখ্য চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছেন। দাদাসাহেব ফালকে সম্মান তাঁর বহুমুখী প্রতিভার এক সার্থক স্বীকৃতি।

মোহনলালের বক্তব্য ও সম্মাননা প্রাপ্তি শুধু দক্ষিণী সিনেমার ভক্তদেরই নয়, গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতকেই গর্বিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *