কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর:
সোমবার রাতভর মুষলধারে বৃষ্টির জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কলকাতা শহর। মঙ্গলবার ভোর থেকেই মহানগরীর রাস্তাঘাট থেকে গলিপথ— সর্বত্র হাঁটু থেকে বুকসমান জল জমে যায়। অফিসযাত্রী থেকে দিনমজুর, সকলকেই পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার থেকেই সব সরকারি স্কুলে পুজোর ছুটি ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার জরুরি পদক্ষেপের ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে এ বছর রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে পুজোর ছুটি মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হবে। পাশাপাশি, আইসিএসই ও সিবিএসই বোর্ডের স্কুলগুলিকে অন্তত দু’দিনের ছুটি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, আগামী দুই দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হোক যাতে ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি থেকে নিরাপদে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। তাই আমি মুখ্যসচিবকে জানিয়ে দিয়েছি আজ থেকেই সরকারি স্কুলগুলিতে পুজোর ছুটি ঘোষণা করতে। আশা রাখি শিক্ষামন্ত্রীও বিষয়টি দেখবেন। বেসরকারি স্কুলগুলির কাছেও অনুরোধ থাকবে একই পথে হাঁটার।” তিনি আইসিএসই এবং সিবিএসই বোর্ডের স্কুল কর্তৃপক্ষকে অন্তত দুই দিনের জন্য ছুটি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আগামী দুই দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
রাতভর অতিভারী বৃষ্টির কারণে কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শহরের কোথাও হাঁটু-জল, আবার কোথাও কোমর-সমান জল জমে গেছে। অফিসগামী মানুষ এবং অন্যান্য কাজে বের হওয়া ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি এবং জোয়ারের কারণে শহরের বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশন থেকে দ্রুত জল নামানো সম্ভব হচ্ছে না।
শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ ছাড় দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার কর্মচারীরা অফিসে না আসতে পারলেও তাঁদের ছুটি কাটা হবে না। বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রতিও আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “এখনই সময় মানবিক হওয়ার। আজ ও আগামীকাল কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) করার ব্যবস্থা করুন।” একই সাথে তিনি জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, প্রবল বর্ষণে শহরের জনজীবন বিপর্যস্ত। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, গঙ্গায় জোয়ার ও নিকাশি খালগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত জল নামানো সম্ভব হচ্ছে না। তবুও কলকাতা পুরসভার একাধিক দল ময়দানে নেমে কাজ করছে। পাম্পিং স্টেশনের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রচণ্ড চাপে পড়তে হচ্ছে পুরসভাকে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
প্রবল বৃষ্টিতে অচল শহর কলকাতা। এই দুর্যোগে রাজ্যবাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অনুরোধ, “আজ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বেরোবেন না। নিরাপদে থাকুন।”