কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর: গত সোমবার রাতভর এবং মঙ্গলবার ভোর থেকে একটানা প্রবল বর্ষণে কলকাতার জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের অধিকাংশ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের মধ্যে শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
লাগাতার বৃষ্টির ফলে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেমন— পার্ক সার্কাস, গড়িয়াহাট, বেহালা এবং কলেজ স্ট্রিট হাঁটুজল থেকে কোমরসমান জলে ডুবে যায়। এর ফলে বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহন আটকে পড়ে এবং commuters-দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বহু স্কুল ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়, কারণ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা জলমগ্ন রাস্তা পার হয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারেননি। অফিসযাত্রীরাও গণপরিবহণের অভাবে চরম হয়রানির শিকার হন।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন বেনিয়াপুকুরের ফিরোজ আলি খান (৫০), নেতাজি নগরের প্রণতোষ কুণ্ডু (৬২) এবং একবালপুরের মমতাজ বিবি (৭০)। এছাড়া, গড়িয়াহাট এলাকায় একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে শহরের পরিবহণ পরিষেবাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্লু লাইনে (দক্ষিণেশ্বর-শহীদ ক্ষুদিরাম) মেট্রো পরিষেবা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, বিশেষত মহানায়ক উত্তম কুমার এবং রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে জল জমে যাওয়ায় পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শহীদ ক্ষুদিরাম এবং ময়দান স্টেশনের মধ্যে পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করে।

এছাড়া, হাওড়া এবং কলকাতা স্টেশন থেকে আসা-যাওয়া করা ট্রেনগুলি আংশিকভাবে প্রভাবিত হয়। চিত্তপুর ইয়ার্ডে জল জমে যাওয়ায় সার্কুলার রেল পরিষেবাও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আরও কিছু জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ PTI