ট্রেলার প্রকাশের পর দর্শকমহলে তুমুল উত্তেজনা, মুক্তি ২৬ সেপ্টেম্বর
কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ্যে এলো নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালিত বাংলা চলচ্চিত্র ‘রক্তবীজ ২’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ট্রেলার। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার ‘রক্তবীজ’-এর এই সিক্যুয়েলটিতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সংগ্রামের এক টানটান চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ট্রেলারের মূল বার্তা, “সন্ত্রাসবাদীদের কোনও দেশ হয় না, তাদের একটাই পরিচয় তারা সন্ত্রাসী,” যা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

‘রক্তবীজ ২’-এর গল্প ২০১৪ সালের বর্ধমান বিস্ফোরণের মতো বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত, যা ভারত ও বাংলাদেশকে সমানভাবে প্রভাবিত করেছিল। ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, আবীর চট্টোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তী, অঙ্কুশ হাজরা এবং কৌশানী মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন অভিজ্ঞ অভিনেত্রী সীমা বিশ্বাস, যিনি বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদলে নির্মিত ‘সুলতানা রহমান’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যাবে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর আদলে তৈরি চরিত্রে।
ট্রেলারে দেখা যায়, আবীর চট্টোপাধ্যায় এবং মিমি চক্রবর্তী যথাক্রমে পঙ্কজ সিং এবং সংযুক্তা মিত্র নামের দুই দুঁদে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় রয়েছেন, যারা অপরাধী মুনিরকে খুঁজে বের করতে মরিয়া। অঙ্কুশ হাজরাকে খলনায়ক চরিত্রে দেখা গেছে, যা দর্শকদের নজর কেড়েছে। ট্রেলারের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো রীতিমতো টানটান উত্তেজনা তৈরি করেছে।

এই ছবিটি শুধু একটি অ্যাকশন থ্রিলার নয়, এটি ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা এবং সন্ত্রাস দমনে দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ছবির ট্রেলারে পদ্মাপাড়ের দৃশ্য, বাংলাদেশের পতাকা এবং সে দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দুই দেশের মৈত্রীর বার্তা দেয়। ছবির পরিচালক ও কলাকুশলীরা আশা করছেন, এই ছবিটি দুই দেশের মানুষের মধ্যেকার সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে সাহায্য করবে।
‘রক্তবীজ ২’ আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। প্রথম ছবির বিপুল সাফল্য, শক্তিশালী বিষয়বস্তু এবং জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি এই ছবি ঘিরে দর্শকের উন্মাদনা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ছবিটি শুধু বিনোদন নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক দলিল হয়ে উঠবে।