বরপেটার জমি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ, ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার ১ কোটি টাকা ও বিপুল সোনার গয়না
নিউজ ফ্রন্ট, গুয়াহাটি, ১৬ সেপ্টেম্বর: দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ফের কড়া পদক্ষেপ নিল মুখ্যমন্ত্রী ভিজিল্যান্স সেল। মঙ্গলবার গুয়াহাটির পানবাজার মহিলা থানার হেফাজত থেকে আসাম সিভিল সার্ভিস (ACS) আধিকারিক নূপুর বরা-কে নিয়ে আসা হয় ভিজিল্যান্স কার্যালয়ে। একইসঙ্গে আটক করা হয় বরপেটার বাঘবর রাজস্ব সার্কেলের লাট মণ্ডল সুরজিত ডেকা-কেও।
সূত্রের খবর, এদিন প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষার পর দুই আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রী ভিজিল্যান্স দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পেশ করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই মামলায় গুয়াহাটি ও বরপেটা জেলায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হবে।
এর আগের দিন সোমবার, মুখ্যমন্ত্রী ভিজিল্যান্সের অভিযানে নূপুর বরার গুয়াহাটির মালিগাঁওয়ের ফ্ল্যাট থেকে এক কোটি টাকারও বেশি নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ সোনার অলঙ্কার উদ্ধার হয়। অভিযোগ, বরপেটায় সার্কেল অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় তিনি ভুয়ো নামে জমি রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আগেই জানিয়েছিলেন, সরকারি আধিকারিকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “সরকারি কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িত হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এই ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।”
শুধু নূপুর বরাই নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুরজিত ডেকার বিরুদ্ধেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রাজস্ব দপ্তরে কর্মরত অবস্থায় তিনি জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।
কে এই নুপুর বরা?
দুর্নীতির অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী ভিজিল্যান্সের জালে ধরা পড়া নূপুর বরা আসামে প্রশাসনিক পরিষেবার (ACS) এক তরুণ আধিকারিক। বয়স মাত্র ৩৬ বছর। নূপুর বরা গোলাঘাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ৩১ মার্চ ১৯৮৯ সালে। শিক্ষাজীবন কাটে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (BA) সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি পড়াশোনা করেন ঐতিহ্যবাহী কটন কলেজে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নূপুর বরা কর্মজীবন শুরু করেছিলেন District Institute of Education and Training (DIET)-এ লেকচারার হিসেবে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আসাম সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে প্রশাসনিক জীবন শুরু করেন।
মার্চ ২০১৯ – জুন ২০২৩ করবি আংলং জেলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন। জুন ২০২৩ থেকে বরপেটায় সার্কেল অফিসার হিসেবে পদস্থ হন। এর পরে তাঁকে বদলি করা হয় কামরূপে।
তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্বকালে জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তদন্তে নেমে ভিজিল্যান্স নূপুর বরার মালিগাঁওয়ের ফ্ল্যাট থেকে এক কোটিরও বেশি নগদ টাকা ও সোনার অলঙ্কার উদ্ধার করে।
একই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নূপুর বরার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুরজিত ডেকা—বরপেটার রাজস্ব দপ্তরের লাট মণ্ডল—এর বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ভিজিল্যান্স।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই মামলায় শুধু নগদ টাকা নয়, আরও বিপুল সম্পত্তি ও নথি বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য বরপেটা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে তল্লাশি চালাবে ভিজিল্যান্স।