হিন্দি দিবসে জাতীয় ঐক্যের বার্তা: প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি:

প্রতি বছর ১৪ই সেপ্টেম্বর ভারতে উদযাপিত হয় হিন্দি দিবস। এই দিনটি শুধুমাত্র একটি ভাষার প্রতি সম্মান জানানোর দিন নয়, বরং এটি দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ভাষাগত ঐক্যের এক শক্তিশালী প্রতীক। এই বছর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অন্য মন্ত্রীরাও হিন্দির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যা দেশের সংহতি ও অগ্রগতির এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

১৪ই সেপ্টেম্বর হিন্দি দিবস উপলক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জাতির প্রতি ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ হিন্দিকে ভাষাগত ঐক্যের ‘অমূল্য রত্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি তার ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “হিন্দি সমস্ত ভারতীয় ভাষাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছে।” তিনি যোগ করেন যে, ভারতীয় ভাষার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি শ্রেণী ও সম্প্রদায়কে তাদের নিজস্ব কণ্ঠস্বর দেওয়ার ক্ষমতা। তিনি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা ও সঙ্গীতের উদাহরণ দেন—যেমন বিহু, ওভিয়াম, লোহরি, বিদ্যাপতির পদাবলী এবং বাংলার বাউল সাধুদের গান—যা দেশের সংস্কৃতিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ দেওয়া তার পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে জরুরি অবস্থার কঠিন দিন পর্যন্ত, হিন্দি দেশের নাগরিকদের একত্রিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও হিন্দি দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে, হিন্দি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং আমাদের পরিচয় এবং মূল্যবোধের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, “বিশ্ব মঞ্চে হিন্দির প্রতি ক্রমবর্ধমান সম্মান আমাদের সকলের জন্য গর্ব ও অনুপ্রেরণার বিষয়।”

বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস. জয়শঙ্কর তার বার্তায় হিন্দির ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বব্যাপী আগ্রহ বাড়ছে, আর হিন্দি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।” তিনি বিশ্বজুড়ে হিন্দি প্রচারের সাথে যুক্ত ভাষাবিদ ও উত্সাহীদের বিশেষ অভিনন্দন জানান।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তার বার্তায় হিন্দিকে ‘জাতীয় চেতনার শক্তিশালী অভিব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটিকে জাতীয় সংহতির এক প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সমস্ত ভারতীয় ভাষাকে রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য একটি সম্মিলিত সংকল্পের আহ্বান জানান।

হিন্দি ভারতের দুটি সরকারি ভাষার মধ্যে অন্যতম, যা দেবনাগরী লিপিতে লেখা হয় এবং বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা। এটি ভারতের ২২টি তফসিলি ভাষার মধ্যে একটি। হিন্দি দিবসের মূল লক্ষ্য হলো এই ভাষাকে প্রচার ও প্রসার করা, এবং একই সাথে দেশের বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার মধ্যে জাতীয় ঐক্যের চেতনা জাগিয়ে তোলা।

এই বছরের হিন্দি দিবসটি কেবল ভাষার উদযাপন ছিল না, বরং এটি একটি জাতীয় ঐক্যের প্রতিজ্ঞার প্রতিফলন ছিল। রাজনৈতিক নেতাদের এই বার্তাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে, হিন্দি কীভাবে ভারতের বহু-ভাষিক সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি প্রমাণ করে যে, একটি ভাষা যখন তার সমস্ত সহযাত্রী ভাষাকে সম্মান জানায়, তখন তা প্রকৃত অর্থেই জাতীয় সংহতির প্রতীক হয়ে ওঠে। এই সম্মিলিত বার্তাটি দেশের মানুষকে তাদের ভাষাগত বৈচিত্র্যকে গর্বের সঙ্গে ধারণ করতে এবং একসাথে একটি ‘উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *