কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানির মামলা গতকাল খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে। একই সঙ্গে আদালত সময় নষ্ট করার দায়ে মামলাকারী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সব্যসাচী দত্তকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত তার রায়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কার্তিক মহারাজের মন্তব্যে মানহানির কোনো উপাদান ছিল না এবং এই মামলার কোনো সারবত্তা নেই। রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্রে এমন মন্তব্য সাধারণ বিষয়, এবং এটিকে মানহানি হিসেবে গণ্য করা যায় না। সব্যসাচী দত্তের আইনজীবীর যুক্তি শোনার পর আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। আদালত আরও মন্তব্য করে যে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমালোচনা বা কটাক্ষ সহ্য করার ক্ষমতা থাকা উচিত এবং প্রতিটি সমালোচনামূলক মন্তব্যকে মানহানির মামলায় টেনে আনা উচিত নয়।
বিচারপতি মান্থার এই রায়কে অনেকেই বাকস্বাধীনতার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। মামলার রায়ে বলা হয়েছে, কার্তিক মহারাজের মন্তব্যগুলো মূলত রাজনৈতিক সমালোচনা ছিল এবং তা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত মানহানির পর্যায়ে পড়ে না। আদালত মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, অভিযোগটি ভিত্তিহীন এবং শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ কারণেই আদালত সব্যসাচী দত্তকে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ তুচ্ছ কারণে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে। এই রায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীঘায় জগন্নাথ মন্দির নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজ একটি মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে বিধাননগরের চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা খারিজ করে দেওয়া হয়। এই রায় তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।