নয়াদিল্লি: ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যাওয়া বাংলাভাষী শ্রমিকদের ওপর হেনস্থা এবং তাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করার প্রতিবাদে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা ও বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আজ সকালে তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। প্রায় চল্লিশ মিনিটের এই বৈঠকে তিনি রাষ্ট্রপতির হাতে একটি দুই পাতার স্মারকলিপি তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে অধীর চৌধুরী উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্য যেমন হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি এবং রাজস্থানে বাংলা থেকে যাওয়া হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। তাদের শারীরিক গঠন, ভাষা এবং খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে অপমান করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের আটক করা, মারধর করা এবং জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটছে।
অধীর চৌধুরী তার অভিযোগের পক্ষে যুক্তি হিসেবে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে হরিয়ানার পানিপথে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এই শ্রমিকরা যে রাজ্যের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, সেখানেই তাদের বারবার অপমান ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। পুলিশের হেনস্থা এতটাই বেড়েছে যে অনেক শ্রমিক ভয়ে তাদের কাজের জায়গা ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।
অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁর স্মারকলিপিতে ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভারতের যেকোনো প্রান্তে বসবাস এবং জীবিকা নির্বাহ করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাই এই গুরুতর বিষয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন বাংলায় বসে হুক্কা হুয়া করলেই পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার সমাধান হবে না সমাধানের রাস্তা খুঁজতে গেলে আমাকে যেতে হবে যেতে হবে সেই জায়গায় যেখানে গেলে এই রাস্তা আমরা খুঁজে পাবো এটা কিন্তু হঠাৎ করে একদিনের সমস্যা সমাধানের বিষয় নয় এটা একটা স্থায়ী বন্দোবস্ত হওয়া দরকার।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অধীর চৌধুরীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি কেবল পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে না, বরং ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি করে। অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সঙ্গেও দেখা করে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। এই সমস্যাটির সমাধানে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে দেশের কোনো নাগরিককে তার ভাষার কারণে ভিন রাজ্যে হেনস্থার শিকার হতে না হয়।