ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়, বিরোধীদের ফলাফল প্রত্যাখ্যান

নিউজ ফ্রন্ট, ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার সকালে সিনেট ভবনে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। তাতে দেখা যায়, ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতেই জয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। বাকি তিনটি পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

শীর্ষ তিন পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থীদের দাপট

ফলাফলে সবচেয়ে আলোচিত তিনটি পদ—সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)—সব কটিতেই জিতেছেন শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা।

  • ভিপি পদে আবু সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১৪,০৪২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পান মাত্র ৫,৭০৮ ভোট।
  • জিএস পদে এস এম ফরহাদ ১০,৮৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ছাত্রদল সমর্থিত তানভীর বারী হামীম পান ৫,২৮৩ ভোট।
  • এজিএস পদে মহিউদ্দীন খান ৯,৫০১ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তানভীর আল হাদী মায়েদ পান ৪,২৫৪ ভোট।

অন্য সম্পাদকীয় পদগুলোতে জয়ী প্রার্থীরা

বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন—ফাতেমা তাসনিম জুমা (মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক), ইকবাল হায়দার (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক), উম্মে ছালমা (কমন রুম রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক), জসীমউদ্দিন খান (আন্তর্জাতিক সম্পাদক), আরমান হোসেন (ক্রীড়া সম্পাদক), আসিফ আব্দুল্লাহ (ছাত্র পরিবহন সম্পাদক), যুবাইর বিন নেছারী (সমাজসেবা সম্পাদক), মাজহারুল ইসলাম (ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক), এম এম আল মিনহাজ (স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক), এবং মো. জাকারিয়া (মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক)।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে জয়ী হয়েছেন—মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ (সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক), সানজিদা আহমেদ তন্বি (গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক) এবং যুবাইর বিন নেছারী।

তবে ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (ছাত্রদল)-সমর্থিত প্রার্থী ও স্বাধীন প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন “প্রচণ্ড অনিয়ম ও রিগিংয়ের মাধ্যমে” হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসন প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব করেছে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রতি। ফলে তারা এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৯,৮৭৪ জন—যার মধ্যে ১৮,৯৫৯ জন ছাত্রী এবং ২০,৯১৫ জন ছাত্র। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৮টি পদের বিপরীতে লড়েছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ১৮টি হল সংসদে মোট ২৩৪টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১,০৩৫ জন।

ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। এই নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীদের বিপুল সাফল্য ছাত্ররাজনীতিতে ইসলামী প্রভাব বৃদ্ধির নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, এটি গণতান্ত্রিক শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করবে। পর্যবেক্ষক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলাফলকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *