ফরাক্কা, মুর্শিদাবাদ – সরকারি পোর্টালে জন্ম শংসাপত্র ডিজিটাল করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে স্থানীয় পঞ্চায়েত—এমন গুরুতর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারীদের দাবি, এই বেআইনি টাকা নেওয়ার পর রশিদও দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিষয়টিকে লোকচক্ষুর আড়ালে বৈধতা দেওয়া যায়।
এই নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কা ব্লকের বেওয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ালেও, অভিযোগ সামনে আসতেই পঞ্চায়েত প্রধান ও কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেওয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পঞ্চমী দাস পুরো বিষয়টি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যখন পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান দায়িত্বে ছিলেন, তখনই শংসাপত্র প্রদানের জন্য একটি রেজুলেশন পাস হয়। বর্তমানে আমরা সেই রেজুলেশন মেনেই কাজ করছি। কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না। সরকারি নথি অনুযায়ী যে টাকা নেওয়া হয়, তা স্বচ্ছতার সঙ্গেই নেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন।”
পঞ্চায়েত প্রধান আরও জোর দিয়ে বলেন যে, তারা সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করেন এবং সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত ও স্বচ্ছ পরিষেবা পান, তা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বদা সচেষ্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে, যার লক্ষ্য হলো পঞ্চায়েতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গ্রামে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করলেও, আবার অনেকে পঞ্চায়েত প্রধানের বক্তব্যে আস্থা রাখছেন। এলাকার কিছু বাসিন্দার দাবি—“প্রধান খোলাখুলি বিষয়টি ব্যাখ্যা করায় অনেকটাই স্বচ্ছতা এসেছে।” তবে বিতর্ক এখনও থামেনি।
ফরাক্কার বেওয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতকে ঘিরে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পঞ্চায়েত স্তরের স্বচ্ছতা নিয়ে। সরকার যেখানে বলছে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র বিনামুল্যে দেওয়া হবে সেখানে পঞ্চায়েত কিভাবে টাকা নিতে পারে। অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তবে তা প্রশাসনিক অনিয়মের বড় উদাহরণ হবে। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত প্রধানের পাল্টা দাবিতে ঘটনাটি রাজনৈতিক রঙ পেয়েছে। এখন নজর তদন্ত ও প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। এখন দেখার বিষয় হলো, এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায় এবং তদন্তের পর আসল সত্য কী বেরিয়ে আসে। এই ঘটনাটি গ্রামীণ স্তরে সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।