বহরমপুর, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: ডোমকলের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম (৪৯) বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত ২৭শে জুলাই থেকে তিনি অসুস্থ ছিলেন সেই সময়ে তাকে বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় গ্রীন করিডর করে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল উন্নত চিকিৎসার জন্য।
রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন:
জাফিকুল ইসলামের জন্ম ০৫.১২.১৯৭৬। জাফিকুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবনের উত্থান ছিল চমকপ্রদ। তিনি একজন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলেন। একসময় তিনি মারুতি ভ্যান চালাতেন এবং পরে মুড়ি মিলের ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর শিক্ষাজীবনের পরিচয়ও উল্লেখযোগ্য—তিনি এম.এ (শিক্ষা) এবং বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তিনি একাধিক বি.এড, ডি.এল.এড, ফার্মাসি এবং পলিটেকনিক কলেজের মালিক হন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠেই রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ হতো, যা তাকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।পরে একটি পেট্রোল পাম্প ও কিনেছিলেন এই বিধায়ক। ধীরে ধীরে তিনি ডোমকলে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।
২০১৫ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন এবং ২০১৭ সালে ডোমকল পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২০১৯ সালে ডোমকলের পৌরপ্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ডোমকল কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন এবং সিপিআই(এম) প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানকে পরাজিত করে বিধায়ক হন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবনে দুর্নীতি সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ এবং সিবিআই তল্লাশির বিষয়ও সামনে এসেছিল, যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী এবং ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর শোকবার্তায় জানান, জাফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বিধায়কের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকাহত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ডোমকল এবং তার সংলগ্ন এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। তাঁর মৃত্যুতে ডোমকলের রাজনীতিতে একটি শূন্যস্থান তৈরি হলো বলে মনে করছেন অনেকে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সহজ সম্পর্ক এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।