কৃষ্ণনগরের কলেজছাত্রী ঈশিতা হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত দেশরাজ সিং গ্রেপ্তার

নিউজ ফ্রন্ট, কৃষ্ণনগর, ১ সেপ্টেম্বর:

নদীয়ার কৃষ্ণনগরের বহুল আলোচিত কলেজছাত্রী ঈশিতা মল্লিক খুনের ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্ত দেশরাজ সিং পুলিশের জালে ধরা পড়ল। উত্তরপ্রদেশের নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন মহারাজগঞ্জ জেলা থেকে রবিবার বিকেলে দেশরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিশেষ দল। সোমবার ভোরেই ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে কৃষ্ণনগরে আনা হয়। আজই তাকে আদালতে পেশ করা হবে।

গত ২৫ আগস্ট দুপুরে কৃষ্ণনগরের নিজ বাড়িতে মাথায় পরপর তিনটি গুলি করে খুন করা হয় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ঈশিতাকে। স্থানীয়দের দাবি, খুনের পর কিছুক্ষণের জন্য ঘটনাস্থলেই অবস্থান করে দেশরাজ। সেই সময়ে ঈশিতার মা ও ছোট ভাই বাড়ি ফেরেন। অভিযোগ, বন্দুক তাক করে ঈশিতার মাকেও ভয় দেখায় অভিযুক্ত। তারপরেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সে।

খুনের পর থেকেই দেশরাজকে ধরতে হন্যে হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। প্রথমে সে পালিয়ে যায় উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায় পৈতৃক বাড়িতে। পরে বারবার জায়গা পরিবর্তন করতে থাকে। অবশেষে নেপাল সীমান্তের কাছে মহারাজগঞ্জে লুকিয়ে থাকার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে দেশরাজের মামা কুলদীপ সিংকেও গুজরাট থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকেও ট্রানজিট রিমান্ডে কৃষ্ণনগরে আনা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশরাজ প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়েই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঈশিতা সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। তরুণীর উপর বারবার চাপ সৃষ্টি করত, হুমকি দিত। এমনকি আত্মহত্যার নাটক করে ভিডিও পাঠিয়েছিল দেশরাজ। তাতেও সম্পর্ক মেরামত না হওয়ায় শেষমেশ খুনের পরিকল্পনা করে।
পুলিশের দাবি, কয়েক মাস আগে থেকেই দেশরাজ ঈশিতার বাড়ির আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে রেকি চালাত। খুনের দিনও সে প্রস্তুতি নিয়েই বাড়িতে ঢোকে।

দেশরাজ উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে মা-বোনের সঙ্গে থাকত। তার বাবা বিএসএফ জওয়ান। পড়াশোনার পাশাপাশি দেশরাজের মধ্যে আক্রোশ ও জেদী মনোভাব স্পষ্ট ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অমরনাথ কে এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন,
এই গ্রেপ্তারি তদন্তের বড় সাফল্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তবে পুরো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সহায়তাকারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে দেশরাজকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন, কেন এক তরুণীর জীবন এভাবে বলি দিতে হল পুরনো সামাজিক মানসিকতার কাছে। প্রতিবেশীরা অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *