নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা: বাংলা ভাষা ও বাংলাভাষীদের প্রতি ‘অপমান’-এর প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৃণমূল কংগ্রেস মঞ্চ তৈরি করে আন্দোলন চালাচ্ছিল। প্রতি শনিবার ও রবিবার সেই মঞ্চে ধর্নায় বসছিলেন শাসকদলের নেতারা। কিন্তু সোমবার দুপুরে হঠাৎই সেনাবাহিনীর জওয়ানরা সেই মঞ্চ খুলে দেন। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়ায় রাজ্য রাজনীতিতে।
সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সর্বোচ্চ দু’দিনের জন্য অস্থায়ী কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে মঞ্চ বেঁধে রাখায় বারবার সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আয়োজকদের। তবুও কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেনা নিজেই মঞ্চ ভেঙে দেয়।
এই ঘটনার খবর পেয়েই সরাসরি গান্ধীমূর্তির সামনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ ভাঙা নিয়ে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তবে সেনাকে সরাসরি আক্রমণ না করে বিজেপিকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বলেন, “আমার আর্মির বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ নেই। সেনাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। কিন্তু বিজেপির চাপে সেনাকে দিয়ে রাজনৈতিক কাজ করানো হচ্ছে। সেনাকে যখন দলের নির্দেশে ব্যবহার করা হয়, তখন দেশ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।”

তাঁর অভিযোগ, যদি আগে থেকেই তৃণমূলকে জানানো হত, দল এক মিনিটে মঞ্চ সরিয়ে নিত। মঞ্চ ভাঙা প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় মমতার আক্রমণ, “সরি টু সে, এটা আর্মি নয়, পিছে মে ক্যায়া হ্যায়? ছুপা রুস্তম বিজেপি হ্যায়।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “মোদীবাবুর অনুমতি নিয়ে আমি কর্মসূচি করব না। আমি মানুষের অনুমতি নিয়েই কর্মসূচি করব।”
মমতার অভিযোগের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি ডঃ সুকান্ত মজুমদার এক্স-এ লিখেছেন, “মমতা মিথ্যা, স্বেচ্ছাচার আর দ্বিচারিতার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যে এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর অসম্মান করতেও তাঁর আটকাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “দু’দিনের অনুমোদন নিয়ে একমাস ধরে অবৈধভাবে তৃণমূল কর্মসূচি চালিয়েছে। সেনাবাহিনী আইন মেনে সঙ্গত কারণেই পদক্ষেপ করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজেকে আইন, সংবিধান আর সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বে ভাবেন?”
প্রসঙ্গত, ময়দান এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ভারতীয় সেনার হাতে। সেই কারণে সেখানে কোনও স্থায়ী বা অস্থায়ী নির্মাণ কিংবা কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সেনার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে শনিবারের ঘটনার পর থেকে ময়দান-রাজনীতি যে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। শাসকদল তৃণমূলের দাবি, বিজেপি সেনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, আইন অমান্য করে তৃণমূল অবৈধ কর্মসূচি চালাচ্ছিল। ফলে সেনার পদক্ষেপ একেবারেই সঙ্গত।
বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ভোটের আগে ময়দানে মঞ্চ ভাঙা নিয়ে এই বিতর্ক বাংলার রাজনীতিকে আরও উসকে দেবে।