বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করল ইডি

নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদঃ  সোমবার সকালে ফের নড়েচড়ে বসল এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা। মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে অবশেষে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।

দিনের শুরুতেই বিধায়কের আন্দি গ্রামের বাড়িতে হানা দেয় ইডির একটি বিশেষ দল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এলাকায় মোতায়েন ছিলেন। সকাল আটটা থেকে টানা প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জেরা ও তল্লাশি চলে। দুপুর বারোটার পর ইডি আধিকারিকরা তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান কলকাতার উদ্দেশে। শুরু থেকেই তদন্তে অসহযোগিতা করছিলেন জীবন যার কারনেই এই গ্রেপ্তার।

তল্লাশির সময়ই শুরু হয় নাটকীয় ঘটনা। তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে পড়ে দু’বার মোবাইল ফোন পাশের জঙ্গল ও ঝোপে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বিধায়ক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় দুটি ফোন। এই ফোনেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে ইডি। এই মোবাইল ফেলে দেওয়ার নাটক এর আগেও একবার করেছেন বিধায়ক।

শুধু জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িই নয়, সোমবার মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম মিলিয়ে অন্তত চারটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি। জীবনকৃষ্ণ সাহার আন্দি গ্রামের বাড়ি, রঘুনাথগঞ্জে তাঁর শ্বশুরবাড়ি, সাঁইথিয়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ও তাঁর পিসি মায়া সাহার বাড়ি, আন্দি মহীষ গ্রামের এক ব্যাংক কর্মীর বাড়ি। প্রতিটি জায়গায় বিপুল নথি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসএসসি’র নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সঙ্গেই যুক্ত এই অভিযান। দীর্ঘদিন ধরেই জীবনকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠছিল। তবে কি কারনে জীবনকৃষ্ণ কে গ্রেপ্তার করা হল সে বিষয়ে কিছু বলে নি ইডি। গ্রেপ্তারের পরে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেন নি বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ।  

উল্লেখ্য এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল এই বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। বর্তমানে বিধায়ক জামিনে মুক্ত ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *