মুর্শিদাবাদ, আখেরিগঞ্জ —
ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া আখেরিগঞ্জের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম অব্যবস্থার ছবি ধরা পড়েছে। স্কুলের ভাঙা শৌচাগার, বিকল দুটি টিউবওয়েল, জরাজীর্ণ ক্লাসরুম এবং পানীয় জলের ব্যবস্থায় ঝোপঝাড়ে ভরা এলাকা—সব মিলিয়ে নেই ন্যূনতম সুযোগ–সুবিধাও।
এমন নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পড়তে আসতে চাইছে না শিক্ষার্থীরা। মিড-ডে-মিলের টানেও আর স্কুলে ফিরছে না অনেকে। ফলস্বরূপ দিন দিন বাড়ছে স্কুলছুটের সংখ্যা।
ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এলাকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে পড়ুয়া অভিভাবকরা। অভিযোগ, বারবার ব্লক প্রশাসনকে জানানো হলেও মেলেনি কোনো সুরাহা। বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।

স্কুলের টিআইসি টোটন মণ্ডল জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও বিডিও অফিসে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “আমরা অফিসে জানিয়েছি এবং বিডিও অফিসেও লিখিত দিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয় তবে আমরা নিজের প্রচেষ্টায় সমাধান করার চেষ্টা করব।”
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মান্নান মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাচ্চারা জল খেতে পায় না। রান্নার জন্যও জল নেই। মাঝে মাঝে স্কুলে সাপ ঢুকে পড়ে, সাপ দেখে বাচ্চারা আতঙ্কে পালিয়ে যায়। চারপাশে জঙ্গলে ভরা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নেই। পানীয় জলের অভাব, বাথরুম নোংরা—মশা-মাছিতে ভর্তি। ছেলে বাচ্চারা বাথরুম ব্যবহার করতে পারে না। এই অবস্থায় বাচ্চাদের পক্ষে স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। সরকারও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
স্থানীয়দের দাবি—শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রশাসনের এমন উদাসীনতা শুধু শিশুদের ভবিষ্যৎ নয়, পুরো এলাকার শিক্ষার পরিবেশকেই ধ্বংস করছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।