ডায়মন্ড হারবার – ২ (মিকেল, জাস্টিন) ইস্টবেঙ্গল – ১ (আনোয়ার)
নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ২০ আগস্ট ২০২৫:
প্রথমবারের মতো ডুরান্ড কাপে অংশগ্রহণ করেই ইতিহাস গড়ল ডায়মন্ডহারবার এফসি (DHFC)। বুধবার কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে তারা ২-১ গোলে পরাজিত করল ইস্টবেঙ্গলকে। দ্বিতীয়ার্ধে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মিকেল ইদিয়াকেজ ও কেরালা ফরোয়ার্ড জবি জাস্টিনের জোড়া গোলেই জয় ছিনিয়ে নেয় ডায়মন্ডরা। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আনোয়ার আলি একমাত্র গোলটি শোধ দেন।
এই জয়ের ফলে আসন্ন শনিবার (২৩ আগস্ট ২০২৫) ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এফসির মুখোমুখি হবে ডায়মন্ডহারবার।
ডায়মন্ডহারবার কোচ কিবু ভিকুনা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল সাজান— তিন ডিফেন্ডার ও চার ফরোয়ার্ড নিয়ে নামেন তিনি। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লোস ব্রুজোন শুধু গ্রিক স্ট্রাইকার দিমিত্রিওস দিয়ামান্তাকোসকে সামনে রেখে খেলান।
প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ডায়মন্ডহারবার। ২০ মিনিটের মাথায় জবি জাস্টিন গোলের প্রথম সুযোগ পান, কিন্তু গোলকিপার প্রভসুখন গিল তা ঠেকিয়ে দেন। এরপর ইস্টবেঙ্গলের আনোয়ার আলিও একটি শট নেন, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এরপর ধারাবাহিক আক্রমণে ডায়মন্ডহারবারের স্যামুয়েল একটি জোরালো শট নেন, যা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সুযোগ হাতছাড়া করেন জবিও।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ইস্টবেঙ্গলও সুযোগ তৈরি করে— দিয়ামান্তাকোসের হেড বাইরে যায় এবং পরে মহেশের শট আবারও বার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
বিরতির পর ইস্টবেঙ্গল কিছু পরিবর্তন আনে। জ্যাকসন সিং ও প্রবাত লাকরা নামানো হয়। মহেশ ও বিপিন উইং বদল করেন।
এই পরিবর্তনের পর দিয়ামান্তাকোসের কাছে একাধিক সুযোগ আসে, কিন্তু তিনি একের পর এক তা নষ্ট করেন। গোলের একেবারে সামনে থেকেও তার হেড বাইরে চলে যায়।
ঠিক সেই সময়ের বিপরীতে খেলার ধারার বাইরে গিয়ে দুর্দান্ত এক ব্যাক-ভলিতে গোল করেন মিকেল ইদিয়াকেজ। আনোয়ার হেডে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তা ভেসে ওঠে, আর পিছন ফিরে ভলিতে শট নেন ইদিয়াকেজ— যা সরাসরি জালে গিয়ে মেলে প্রথম গোল।
তবে আনোয়ার আলি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শোধ দেন। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে এসে ৪০ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন। ডায়মন্ডহারবার গোলকিপার মিরশাদ হাত ছুঁলেও বলের বাঁকানো গতির জন্য তা গোলে ঢুকে যায়।
কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘোরে শেষদিকে। অ্যাঙ্গৌসানার কর্নার থেকে বক্সের ভিড়ে গোলমাল তৈরি হয়, আর সেখান থেকে কাছে পেয়ে বল জালে ঠেলে দেন জবি জাস্টিন। সেই গোলই ফাইনালে তোলার পথ দেখায় ডায়মন্ডহারবারকে।
ইস্টবেঙ্গলের ব্রুজোন শেষ মুহূর্তে একের পর এক পরিবর্তন করলেও গোলের দেখা পায়নি দল। অন্যদিকে কিবু ভিকুনা শেষদিকে ডিফেন্স মজবুত করতে বিক্রমজিৎ সিংকে নামান এবং লিড ধরে রাখতে সফল হন।
পুরো ম্যাচে গোলকিপার মিরশাদ একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ হন।
প্রথমবার অংশ নিয়েই ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস তৈরি করেছে ডায়মন্ডহারবার এফসি। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই তারা নামবে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এফসির বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে।