‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পে ঘরে ফেরার ডাক, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, অগাস্ট:
ভিন রাজ্যে বারবার হেনস্থা, হামলা ও অনিশ্চয়তার মুখে এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার নবান্নে ঘোষণা করলেন নতুন প্রকল্প শ্রমশ্রী’, যা একদিকে আর্থিক সুরক্ষা দেবে, অন্যদিকে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাঙালি শ্রমিকদের জন্য তৈরি করবে বিকল্প সুযোগ।

প্রকল্পের মূল কাঠামো

‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের আওতায়—

  • ভিন রাজ্য থেকে ফিরে এলে এককালীন ৫,০০০ টাকা দেওয়া হবে।
  • বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না-হওয়া পর্যন্ত এক বছর প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা ভাতা পাবেন শ্রমিকেরা।
  • সকলকে শ্রমশ্রী আই-কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে রেশন ও স্বাস্থ্যসাথীর মতো অন্যান্য সরকারি সুবিধাও মিলবে।
  • প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ২২ লক্ষাধিক নিবন্ধিত পরিযায়ী শ্রমিক এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার বাইরে যাঁরা কষ্ট করে জীবন চালাচ্ছেন, তাঁদের আমরা ঘরে ফেরাতে চাই। এই প্রকল্প তাঁদের জন্য ন্যূনতম নিরাপত্তার গ্যারান্টি।”

গত কিছু দিন ধরে গুজরাট, হরিয়ানা, ওড়িশা, দিল্লি-সহ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর আক্রমণ ও বৈষম্যের খবর উঠে এসেছে। রাজনৈতিক মহলে মত, সেই পরিস্থিতির জেরে শ্রমিকদের ঘরে টানতে এবং কর্মসংস্থানের বিকল্প গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ।

তৃণমূল শিবির একে মানবিক ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত” বলে দাবি করেছে। তবে বিরোধীরা এটিকে ভোটের আগে রাজনৈতিক কৌশল বলে কটাক্ষ করেছেন।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ভিন রাজ্যে শ্রমিকেরা দিনে যত টাকা আয় করেন, বছরে ৫,০০০ টাকা তাতে কিছুই নয়। এটা আসলে ভাঁওতা।”
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, পরিযায়ীরা দিনে ৫,০০০ টাকা উপার্জন করেন। এই সামান্য টাকার প্রলোভনে তাঁরা ফিরবেন না।” তিনি আরও বলেন আমরা সবাই উনাকে ৫০০০ করে দেবো দয়া করে পিসি আপনি বাংলা ছাড়ুন।

রাজনৈতিক কৌশল হোক বা বাস্তব মানবিক প্রয়াস, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা নিঃসন্দেহে আলোড়ন ফেলেছে। প্রকল্পের কার্যকারিতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন এবং ভিন রাজ্যের আয়ের সঙ্গে এই ভাতার প্রতিযোগিতার ওপর। তবে একথা অনস্বীকার্য, শ্রমশ্রী’ প্রকল্প পরিযায়ী শ্রমিকদের মনে নিরাপত্তা ও আশা দুটোই জাগিয়ে তুলেছে।

এই প্রকল্প সত্যিই কি শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে পারবে? নাকি আরেকটি দুর্নীতি, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার? উত্তর দেবে আগামী দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *