নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট:
বিহারে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) চলাকালীন বিভ্রান্তি ও অভিযোগ ঘিরে রবিবার জাতীয় সংবাদকেন্দ্রে সাংবাদিক বৈঠক করল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার জানান, এই বিশেষ পুনঃতালিকা প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১.৬ লক্ষ বুথ-লেভেল এজেন্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছেন। কমিশনের লক্ষ্য – রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য ভোটার যাতে সঠিকভাবে তালিকাভুক্ত হন এবং কারও ভোটাধিকার বঞ্চিত না হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ থেকে ভোট চুরি বা ভুয়ো ভোটের অভিযোগ ওঠায় জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট বলেন—
“ভোট চুরি’র মতো শব্দ ব্যবহার করা দেশের সংবিধানের প্রতি অপমান। সময়মতো অভিযোগ না জানিয়ে পরে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।”
তিনি নির্দেশ দেন, যারা ভোট চুরির অভিযোগ করছেন তাদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে হলফনামা দিয়ে প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় অভিযোগগুলি খারিজ বলে গণ্য হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জোর দিয়ে বলেন—
“নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো দল বিরোধী বা শাসক নয়। সব রাজনৈতিক দল সমান মর্যাদা পায়। ভোটের তালিকা সংশোধনের দাবি বহু বছর ধরেই আসছে। সেই কারণেই এবার বিশেষ পুনঃতালিকা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আপত্তি ও সংশোধনের প্রস্তাব জানাতে পারবে। ওই সময়সীমার পর আর কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “৭ কোটিরও বেশি ভোটারের অংশগ্রহণ, ১০ লক্ষাধিক বুথ লেভেল এজেন্ট, ২০ লক্ষের বেশি প্রার্থীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চলে। এত মানুষের সামনে ভোট চুরি সম্ভব নয়।”
তিনি এও বলেন, দরিদ্র, ধনী, নারী, যুবক, প্রবীণ, সংখ্যালঘু – সকল ভোটারের পাশে নির্বাচন কমিশন নির্ভীকভাবে দাঁড়াবে।