কিস্তওয়াড় বিপর্যয়: মেঘভাঙা বৃষ্টিতে মৃত্যু ৬০, স্থগিত মচাইল মাতা যাত্রা

নিউজ ফ্রন্ট, কিস্তওয়াড়, জম্মু ও কাশ্মীর:
ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে কিস্তওয়াড় জেলার চশোতি এলাকায় নেমে এসেছে বিপর্যয়ের অন্ধকার। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৬০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত, এবং আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ ও সেনা বাহিনীসহ একাধিক সংস্থা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যদিও তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপ ও জলাবদ্ধ এলাকায় আটকে থাকতে পারেন। চশোতি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পদ্দার-এ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে সাধারণ মানুষ ও তীর্থযাত্রীদের সাহায্যের জন্য।

বিপর্যয়ের সময় হাজার হাজার ভক্ত একত্রিত হয়েছিলেন বার্ষিক মচাইল মাতা তীর্থযাত্রা উপলক্ষে। এই যাত্রা ২৫ জুলাই শুরু হয়েছিল এবং ৫ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ৯,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মন্দিরে পৌঁছাতে চশোতি থেকে সাড়ে আট কিলোমিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির তীব্রতায় রাস্তা ভেসে যায়, ভেসে যায় চশোতি গ্রামের বহু বাড়িঘর, দোকান ও যানবাহন। আকস্মিক বন্যায় বহু তীর্থযাত্রীও ভেসে গিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ বছরের মচাইল মাতা যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমবেদনা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধারকারী দলগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *