চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেনের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে চাপান-উতোর

নিউজ ফ্রন্ট, ঝাড়গ্রাম, ১৬ আগস্ট:
চাকরি হারানো শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুবল সোরেনের মৃত্যুতে শোকের আবহ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা— দুই-ই ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যে। মাত্র ৩৫ বছর বয়সী সুবল সোরেন ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। শুক্রবার সকালে কলকাতার বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সুবল সোরেন। প্রথমে তাঁকে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তিনি মারাত্মক ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং মস্তিষ্কে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। দু’দিন চিকিৎসার পর শুক্রবার সকালেই মৃত্যু হয় তাঁর।

হাসপাতাল থেকে ঝাড়গ্রামে দেহ নিয়ে ফেরার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবার ও সহকর্মীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বাধা দিচ্ছে এবং অমানবিক আচরণ করছে। এই ঘটনায় তীব্র বচসা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। সুবলের স্ত্রী অভিযোগ করেন, “আমাদের অপমান করা হচ্ছে, মৃতদেহ নিয়ে অবহেলা করা হচ্ছে।” তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কেবল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে।

ডেবরার বাসিন্দা হলেও কলকাতার প্রায় প্রতিটি আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন সুবল। ধামসা, মাদল হাতে আন্দোলনের মঞ্চে উঠে সহকর্মীদের মনোবল বাড়াতেন। সহ-আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি, সাম্প্রতিক পুনঃনিয়োগ পরীক্ষার মানসিক চাপই তাঁর মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, রাজ্য সরকারের উদাসীনতা ও দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা একজন তরুণ শিক্ষকের প্রাণ কেড়ে নিল। তাঁদের দাবি, সুবলের মৃত্যু কোনও প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং সরকারের নীতির ফলাফল। শাসক দল এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, “মানুষের ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশাকে রাজনৈতিক মঞ্চে তোলা উচিত নয়।”

সুবল সোরেনের মৃত্যুতে শিক্ষক সমাজে গভীর শোক নেমে এসেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা সংগঠনগুলি জানিয়েছে, এই ঘটনা তাদের আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তুলবে। ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর নেতা মেহবুব মণ্ডল বলেন, “সরকার, বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র মিলে আমাদের দমন করছে। সুবলের মৃত্যু আমাদের সংগ্রামকে আরও দৃঢ় করবে।”

সুবল সোরেনের মৃত্যু শুধুমাত্র একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং রাজ্যের শিক্ষক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গভীর বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *