নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট:
দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতিতে এবং জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজঘাটে যান। পতাকা উত্তোলনের পর লালকেল্লার প্রাঙ্গণ থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা, আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা
প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ২২ এপ্রিল পহেলগামে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনারা নিরীহ মানুষ হত্যাকারী জঙ্গিদের এবং তাদের মদতদাতাদের কঠোর শিক্ষা দিয়েছে। সেনাদের শত্রু ধ্বংস করার জন্য লক্ষ্য, সময় ও পদ্ধতি বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন—
“যদি আবার কোনও সন্ত্রাসী ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে শত্রুদের পরিণতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

আত্মনির্ভর ভারতের ডাক
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শক্তি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আত্মনির্ভরতা অপরিহার্য। গত দশ বছরে ভারত বহু ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে এবং ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় বিশ্ব “Made in India”-র শক্তি প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি জানান, সরকার এখন সেমিকন্ডাক্টর মিশনকে ত্বরান্বিত করছে এবং বছরের শেষে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ চিপ বাজারে আসবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, সার—সব ক্ষেত্রেই আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন—যেভাবে ভারত বিশ্বের জন্য ‘ইউপিআই’ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে বা কোভিডের সময় ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে, তেমনই আরও অনেক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারে।

স্বদেশী পণ্যের আহ্বান
মোদি জানান, এখন সময় এসেছে ‘জিরো ডিফেক্ট, হাই এফিশিয়েন্সি’ ভারতীয় পণ্য বিশ্বের বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার। তিনি দেশবাসীকে ‘ভোকাল ফর লোকাল’-কে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং এমন বাজার ও আউটলেট তৈরির প্রস্তাব দেন যেখানে শুধুমাত্র দেশীয় পণ্য বিক্রি হবে। তাঁর মতে, নির্ভরতা যত কম হবে, সমৃদ্ধি তত বাড়বে।
অর্থনৈতিক সংস্কার ও নতুন উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীপাবলির আগে দেশ পাবে ‘নেক্সট জেনারেশন জিএসটি’, যা উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে। এছাড়াও, ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে ‘প্রধানমন্ত্রী বিকাশিত ভারত রোজগার যোজনা’, যার আওতায় বেসরকারি খাতে প্রথম চাকরি পাওয়া যুবকদের দেওয়া হবে ১৫,০০০ টাকা, এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী সংস্থাগুলোকেও প্রণোদনা দেওয়া হবে।

দশ বছরের উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাস
মোদি জানান, গত এক দশকে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এটি কোনও স্লোগান বা প্রচারের কারণে নয়, বরং বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের দরজায় সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার এবং প্রকল্পের ১০০% বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ফল।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ স্বাধীনতা দিবসের আবেগের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বার্তাও স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর আহ্বান— দেশীয় পণ্যের ব্যবহার, প্রযুক্তি উন্নয়নে যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং স্বনির্ভর ভারতের স্বপ্ন পূরণে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা।
