নকল দূতাবাসের পরে এবার নকল থানা, নয়ডায় ভুয়ো ‘আন্তর্জাতিক পুলিশ’ চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেপ্তার বীরভূমের বহিষ্কৃত TMC নেতা-সহ ৬

নিউজ ফ্রন্ট, নয়ডা:
নকল দূতাবাস কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা—আস্ত নকল থানার হদিশ। উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় ‘ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ নামে ঝাঁ চকচকে একটি অফিস খুলে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছিল পশ্চিমবঙ্গের একদল যুবক। নয়ডা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে চক্রের মূল পান্ডা, বীরভূমের বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা বিভাস অধিকারী-সহ ছয়জন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা নিজেদেরকে উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা বা আইবি অফিসার হিসেবে পরিচয় দিত। নয়ডার সেক্টর-৭০-এর বিএস-১৩৬ ঠিকানায় গত ৪ জুন ভাড়ায় নেওয়া একটি অফিস থেকে ‘আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থা’র ছদ্মবেশে কার্যক্রম চালাচ্ছিল তারা। অফিসের সামনে বড়সড় বোর্ড, সচিত্র ভুয়ো আইডি কার্ড, পুলিশের মতো পোশাক ও লোগো—সব মিলিয়ে একেবারে ‘সমান্তরাল থানার’ মতো সাজানো ছিল গোটা ব্যবস্থা।

অভিযোগ, এই অফিস থেকেই কখনও পুলিশ অফিসার, কখনও তদন্ত সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হতো। এমনকি নিরীহ ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা মামলা রুজু করে তদন্তের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সেন্ট্রাল নয়ডার ডিসিপি শক্তি মোহন অবস্থী জানান, ধৃতরা হলেন—বিভাস চন্দ্র অধিকারী, আরোগ্য অধিকারী, বাবুল চন্দ্র মণ্ডল, পিন্টু পাল, সমাপদ মল ও আশিস কুমার। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে—m৯টি মোবাইল ফোন, ১৭টি স্ট্যাম্প ও সিলমোহর, ৬টি চেক বই, ৯টি আইডি কার্ড, প্যান ও ভোটার কার্ড, ৬টি এটিএম কার্ড, বিভিন্ন ভিজিটিং কার্ড, একটি সিপিইউ ও ৪টি ভুয়ো বোর্ড, ভুয়ো প্রেস এবং মানবাধিকার কমিশনের আইডি কার্ড।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ‘ওয়েস্টার্কটিকা’ নামে স্বীকৃতিহীন দেশের ভুয়ো দূতাবাস কেলেঙ্কারির পর এবার নয়ডায় ধরা পড়ল নকল থানা চক্র। পুলিশ মনে করছে, এই প্রতারণা চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল এবং পশ্চিমবঙ্গের বাইরে গিয়েও শাখা বিস্তার করছিল।

ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং প্রতীক আইনের অধীনে মামলা দায়ের হয়েছে। নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য সদস্যদের খোঁজে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি, কীভাবে এই চক্র এতদিন ধরা না পড়ে সমান্তরাল ‘আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা’ চালাচ্ছিল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে প্রশ্ন।

নকল দূতাবাসের ঘটনার পর এবার নকল থানার কাহিনি প্রকাশ্যে এসে প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর স্পষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের জাল প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপ রুখতে কড়া নজরদারি, দ্রুত তদন্ত এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই একমাত্র উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *