নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতাঃ রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (NAAC)-এর মূল্যায়নে A গ্রেড ও তার ঊর্ধ্বে সাফল্য অর্জন করা ৫৩টি কলেজের অধ্যক্ষদের সংবর্ধনা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতর। শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু নিজ হাতে অধ্যক্ষদের পুরস্কৃত করেন এবং তাঁদের অসামান্য সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান।
এই অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র অধ্যক্ষরাই নন, বরং বিভিন্ন কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভ্যন্তরীণ গুণমান নিশ্চিতকরণ কোষ (IQAC)-এর কো-অর্ডিনেটর এবং রাজ্যস্তরের মেন্টরদেরও সম্মানিত করা হয়। শিক্ষা দফতরের দাবি, শিক্ষাদানের মানোন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং গবেষণায় অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত কলেজ A++, A+, এবং A গ্রেড অর্জন করেছে, তাদের এই বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে।

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের কলেজগুলিতে NAAC-এর মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। এই মূল্যায়নে ভালো ফল করার জন্য ২০২৩ সাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ২২টি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও, জেলাস্তরে কলেজগুলিকে অফলাইন ও অনলাইন উভয় মাধ্যমেই বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আগে রাজ্যে খুব কম কলেজই NAAC-এর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা দফতরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে এই সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই সাফল্যের ফলে রাজ্যের কলেজগুলির মানোন্নয়ন ঘটেছে এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে আজ অনেক কলেজই ভালো গ্রেড পাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি কলেজকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা।

এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হুগলির চন্দননগর গভর্নমেন্ট কলেজ এবং মুর্শিদাবাদের বহরমপুর গার্লস কলেজকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। চন্দননগর গভর্নমেন্ট কলেজ সম্প্রতি NAAC-এর মূল্যায়নে A+ গ্রেড অর্জন করেছে, যা রাজ্যের সরকারি কলেজগুলির মধ্যে প্রথম। এই সাফল্যের জন্য কলেজ অধ্যক্ষ দেবাশিস সরকারকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানানো হয়।
একইভাবে, মুর্শিদাবাদের মতো একটি পিছিয়ে পড়া জেলায় একমাত্র কলেজ হিসাবে বহরমপুর গার্লস কলেজ ‘A’ গ্রেড পেয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ হেনা সিনহা এই সম্মানপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমরা খুব খুশি যে কলেজ এত বড় উচ্চমানের সম্মান পেল।” তিনি আরও জানান, এই সাফল্যের পর কলেজটি আরও বেশি সংখ্যক কোর্স চালু করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা আনার পরিকল্পনা করছে। কলেজের (IQAC)-এর কো-অর্ডিনেটর ডঃ ভাস্কর মহানায়ক এই সাফল্যকে “গার্লস কলেজ পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা” বলে উল্লেখ করেন। অভিভাবকরা মনে করছেন, মুর্শিদাবাদ জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে এই কলেজের সাফল্য নতুন দিশা দেখাবে।
শিক্ষা দফতরের লক্ষ্য হলো, ২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি কলেজকে NAAC-এর মূল্যায়নের আওতায় আনা। এর ফলে শুধু কলেজগুলির শিক্ষার মানই উন্নত হবে না, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে। এই ধরনের উদ্যোগগুলি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।