বহরমপুরে মধুচক্রের পর্দাফাঁস, উদ্ধার এক মহিলা, গ্রেফতার ৫ জন

বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ | ৮ আগস্ট ২০২৫:
শহরের অভিজাত এলাকা রানিবাগানে মধুচক্রের গোপন কারবারের হদিশ মিলতেই হানা দিল পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে বহরমপুর থানার পুলিশ একটি নির্দিষ্ট বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে এক মহিলাকে। ঘটনাটি ঘিরে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

গোপন সূত্রে খবর ছিল, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি বাড়িতে দেহব্যবসা চলছে এবং সেখান থেকে নাবালিকাদেরও পাচার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ। খবর পেয়েই বহরমপুর থানার আইসি-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী অভিযান চালায় রানিবাগানের একটি বাড়িতে। অভিযানকালে সেখানে এক ভুক্তভোগী মহিলাকে উদ্ধার করা হয় এবং দেহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন সোমা ভৌমিক। তিনি জানান, গোপন তথ্য ছিল যে, ওই বাড়িতে নাবালিকাদেরও এনে রাখা হচ্ছিল। যদিও শুক্রবারের অভিযানে কোনো নাবালিকা মেলেনি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সোমাদেবী আরও বলেন, “আমরা আগেই জানতাম কিছু নির্দিষ্ট এলাকা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত। সেই তালিকায় ছিল বহরমপুর শহরও।”

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়ি ব্যবহার করে মধুচক্র চালাচ্ছিল। মানস বাগচী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে এই অবৈধ কার্যকলাপ চলছিল। ৪ বছর আগে রাজা বিশ্বাস ও তার মা সাবিত্রী বিশ্বাস এই বাড়িটি মাসে ৬ হাজার টাকায় ভাড়া নেন। তারপর থেকেই শুরু হয় অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

অভিযানের সময়, পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা সক্রিয়ভাবে একজন মহিলাকে দিয়ে দেহ ব্যবসা চালাচ্ছিল এবং সহায়তা করছিল। ধৃতদের মধ্যে চারজন বহরমপুরের এবং অন্য একজন ভগবানগোলার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে PITA (Prevention of Immoral Trafficking Act)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে দেহব্যবসা চালানো ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনিবার আদালতে তোলা হবে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গোটা চক্রের পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তারা। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সেই তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্তম্ভিত। বহু মানুষের বক্তব্য, তারা কখনও বুঝতেই পারেননি যে তাদের আশেপাশেই এই ধরনের কাজ চলছিল। অনেকে পুলিশের এই তৎপরতা ও ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং একইসঙ্গে শহরের অন্যান্য এলাকায়ও এমন অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন সোমা ভৌমিক স্পষ্ট বলেন,

“লালবাগ থেকে শুরু করে বহরমপুর – আমরা জেলার বিভিন্ন হটস্পটে নজরদারি চালাচ্ছি। যেখানে নাবালিকাদের ব্যবহার করে দেহ ব্যবসা চলছে, সেখানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই অভিযান শুরু, এখন আরও জোরদার হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *