নিউজ ফ্রন্ট, ঢাকা, ৬ আগস্ট:
শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসন শেষ হওয়ার এক বছর পর অবশেষে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হলো। রাজনীতিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন ঘিরে দেশ-বিদেশে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের এই ঘোষণাকে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই ঘোষণা দিয়েছেন দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী মোহাম্মদ ইউনুস।
তিনি জানান, রমজান শুরুর আগেই নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করবেন।
এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন শেখ হাসিনার সরকার পতনের এক বছর পূর্ণ হলো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে সংঘটিত রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতায় আসে ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন।
তৎকালীন সরকার পতনের বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়েই মোহাম্মদ ইউনুস এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ঘোষণাটি করেন। তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি অধ্যায় শেষ হতে চলেছে এবং আগামী বছর ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পথ খুলবে।
তবে নির্বাচন পর্যন্ত শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কতটা নিরপেক্ষ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, তার উপরই নির্ভর করবে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। আন্তর্জাতিক মহলও এই নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।