নওদায় বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র-সহ তিন দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার, একজন তৃণমূল নেতা! খুন-তোলাবাজির নেপথ্যে সুপারি গ্যাং?

নিউজ ফ্রন্ট | মুর্শিদাবাদ | ৫ আগস্ট, ২০২৫

মুর্শিদাবাদের নওদা থানা এলাকায় পুলিশের অভিযানে চাঞ্চল্যকর অস্ত্রকারবার ফাঁস। বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি-সহ তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল নওদা থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন তৃণমূল নেতার নাম থাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

সোমবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কোলাইচণ্ডী ঘাট এলাকায় অভিযান চালায় নওদা থানার পুলিশ। সেই সময় তিন যুবক একটি মোটর বাইকে করে নদিয়ার দিক থেকে টুঙ্গির উদ্দেশ্যে অস্ত্রগুলি নিয়ে যাচ্ছিল। মোটরবাইক আটক করে তিনজন যুবককে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র (২টি ৭ এমএম পিস্তল, ৩টি ওয়ান শট ফায়ারআর্মস) ও ১৩ রাউন্ড গুলি। ধৃতদের নাম – আক্তার শেখ, সামিরুল শেখ এবং রবিউল শেখ। এদের সবার বাড়ি নওদা থানার টুঙ্গি এলাকায়।

এই তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক খুন, তোলাবাজি, ছিনতাই ও অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেলডাঙা এসডিপিও উত্তম গড়াই। শুধু তাই নয়, পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃত রবিউল শেখ এলাকায় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর বিরুদ্ধে একজন প্রোমোটারকে পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও ধৃতদের বিরুদ্ধে ২০২১ ও ২০২৩ সালে দুইটি খুনের মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এরা এলাকায় সুপারি কিলার বা ভাড়াটে খুনি হিসেবেও কাজ করত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ধৃতদের মঙ্গলবার বহরমপুর সিজিএম আদালতে তোলা হয় এবং ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে অস্ত্রের উৎস, মজুতের উদ্দেশ্য, এবং আরও কারা এই চক্রে জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

অভিযানে রাজনৈতিক সংযোগ উঠে আসায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সরকারি ভাবে শাসক দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। নওদায় এই অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ঘটনা মুর্শিদাবাদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আবারও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে, যখন গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তৃণমূল নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ভাড়াটে খুনি হিসাবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে, তখন তা শাসক দলের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনায় আতঙ্কিত। এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করতে এবং জনজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *