প্রয়াত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট ২০২৫: জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ সত্য পাল মালিক প্রয়াত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালবেলায় দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

সত্য পাল মালিক ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল ছিলেন। তাঁর মেয়াদকালেই ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সরকার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করে, যার ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা উঠে যায় এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় তিনি রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। তাই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।

মালিকের রাজনীতি শুরু হয় ১৯৭৪ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার সদস্য হিসেবে। পরে তিনি রাজ্যসভার সদস্য হন।পরে তিনি ওড়িশা ও বিহারের রাজ্যপাল হন। জম্মু ও কাশ্মীরের  রাজ্যপাল থাকার পর তিনি গোয়া ও মেঘালয়ের রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজ্যপাল পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর মালিক অনেকবার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও কঠিন ভাষায় মন্তব্য করেছেন। তাঁর সবচেয়ে চর্চিত অভিযোগ ছিল পুলওয়ামা হামলা নিয়ে।
তিনি দাবি করেন, সরকার সময়মতো গোয়েন্দা সতর্কতা পেয়েও ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও সরকার তাঁর এই বক্তব্য অস্বীকার করে।

২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের সময়, মালিক কৃষকদের খোলাখুলি সমর্থন করেন। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছিলেন, শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিবাদী মনোভাব হালকাভাবে নিলে তা বিপজ্জনক হতে পারে।

১৯৬৮ সালে তিনি ইকবাল কৌর সান্ধুকে বিয়ে করেন। তিনি মিরাট কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন এবং পরে মিরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমানে চৌধুরী চরণ সিং বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্র সংসদেরও সভাপতি নির্বাচিত হন।

সত্য পাল মালিক তাঁর জীবনে অনেকবার দল পরিবর্তন করেছেন। লোকদল থেকে শুরু করে কংগ্রেস, জনতা দল এবং পরে বিজেপিতে যোগ দেন। তবে তিনি নিজের নীতিতে দৃঢ় ছিলেন, এবং কখনোই মুখ বন্ধ করে বসে থাকেননি।

মালিকের অনেক বক্তব্য বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে পুলওয়ামা হামলা বা সরকারের নীতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য নিয়ে মতবিরোধ হয়েছে। তবে অনেকেই তাঁর সাহসিকতা ও সত্য বলার মানসিকতাকে সম্মান করেন।

সত্য পাল মালিক ছিলেন এমন একজন রাজনীতিক, যিনি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে সরকার ও প্রশাসনের ভুল-ত্রুটি নিয়ে মুখ খুলেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে ভারত হারাল একজন সৎ, নির্ভীক এবং স্পষ্টবাদী রাজনীতিককে, যিনি শেষ পর্যন্ত নিজের বিবেকের কাছে সৎ ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *