পদ্মশ্রী দুখু মাঝির পাশে দাঁড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী – পাকা বাড়ির আশ্বাস

নিউজ ফ্রন্ট, পুরুলিয়াঃ

পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার সিন্দ্রি গ্রামের বাসিন্দা দুখু মাঝি। ৮০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ মানুষটি গত পাঁচ দশক ধরে একটানা বৃক্ষরোপণ করে চলেছেন। তাঁর হাতে লাগানো গাছের সংখ্যা এখন ৫ হাজার হাজার খানেক ছাড়িয়ে গেছে। কৈশোর থেকে শুরু করে এই প্রৌঢ়ত্বেও তাঁর এই মহৎ কাজে কোনো ছেদ পড়েনি।

অযোধ্যা পাহাড়ের পাশে থাকা পাথুরে জমি দুখু মাঝির হাত ছোঁয়ায় আজ সবুজে ভরে উঠেছে। পরিবেশ রক্ষার এই অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৪ সালে তিনি পেয়েছেন দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী।

দুখু মাঝির জীবনকাহিনী যেমন অনুপ্রেরণাদায়ক, তেমনই তাঁর বর্তমান অবস্থা হৃদয়বিদারক। পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পরেও তিনি এখনো বাস করছেন একটি ভাঙা কুঁড়েঘরে। সারাজীবন পরিবেশের সেবা করলেও নিজের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি কখনো মনোযোগ দেননি।

তাঁর এই দুরবস্থার কথা জানতে পেরে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি আবাস যোজনার অন্তর্গত তিনি একটি বাড়ি পেয়েছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর একচিলতে ভাঙা ঘরেই বসবাস অব্যাহত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দুখু মাঝির বর্তমান অবস্থা দেখে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী দুখু মাঝিকে একটি পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এই মহৎ উদ্যোগের জন্য তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি গৌতম রায় জানিয়েছেন যে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দুখু মাঝির পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রথম ধাপে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন। এটি শুধুমাত্র প্রাথমিক সহায়তা, প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সাহায্য করা হবে। তিনি আরও জানান যেদিন এই বাড়ি তৈরি শেষ হবে তারপরে শুভেন্দু অধিকারী নিজে এসে তার  বাড়ির অন্ন গ্রহণ করবেন।

পদ্মশ্রী দুখু মাঝির পটভূমি

১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণকারী দুখু মাঝি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও পনেরো বছর বয়সেই উপলব্ধি করেছিলেন যে গাছ মানুষের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই থেকেই তিনি বৃক্ষরোপণে মনোনিবেশ করেন।

অযোধ্যা পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় তিনি ৫ হাজারেরও বেশি গাছ লাগিয়েছেন। তাঁর এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এক সময়ের রুক্ষ পাহাড়ি অঞ্চল আজ সবুজ বনভূমিতে পরিণত হয়েছে।

দুখু মাঝির মতো ব্যক্তিত্বরা সারাজীবন সমাজের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করেন। তাঁদের এই অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সাহায্য করা সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজসেবকদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

দুখু মাঝির জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ সফল হলে অন্যান্য সমাজসেবকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে দুখু মাঝির অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর মতো ব্যক্তিত্বদের সম্মান দেওয়া এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সাহায্য করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *