আবারও ভারতীয় ট্রলার আটক, ১৫ দিনে ৪৮ মৎস্যজীবী বাংলাদেশের জেলে — কূটনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা

নিউজ ফ্রন্ট | কাকদ্বীপ |

আবারও ভারতীয় ট্রলার আটক করল বাংলাদেশের নৌবাহিনী। গত শনিবার গভীর রাতে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করার অভিযোগে FB পারমিতা নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারকে আটক করা হয়েছে। ওই ট্রলারে ছিলেন ১৪ জন মৎস্যজীবী, যাঁরা সকলেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ এলাকার বাসিন্দা

সূত্র অনুযায়ী, ৩০ জুলাই পাথরপ্রতিমার খেয়াঘাট থেকে মাছ ধরতে সমুদ্রে রওনা দেয় FB পারমিতা ট্রলারটি। মাঝ সমুদ্রে গিয়ে ট্রলারের ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে, এবং সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেসে যেতে থাকে। গভীর সমুদ্রে ভেসে ভেসে ট্রলারটি অজান্তেই ভারতীয় জলসীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। এরপরই বাংলাদেশের নৌবাহিনী ট্রলারটিকে আটক করে এবং সেটিকে বাংলাদেশের মংলা মৎস্যবন্দরে নিয়ে যায়।

মাত্র ১৫ দিনেই তিনটি ট্রলার আটক, ৪৮ জন মৎস্যজীবী বন্দি

এই নিয়ে গত ১৫ দিনের মধ্যে তৃতীয়বার ভারতীয় মাছ ধরার ট্রলার আটক করল বাংলাদেশের নৌবাহিনী। মৎস্যজীবী সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে দু’টি ট্রলার থেকে ৩৪ জন মৎস্যজীবী ও এবার FB পারমিতা ট্রলার থেকে ১৪ জন — সব মিলিয়ে ৪৮ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী বর্তমানে বাংলাদেশে আটক রয়েছেন।

সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র জানান, “ট্রলারটির ইঞ্জিন হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। ঘটনাটি কোনওভাবেই পরিকল্পিত ছিল না।” সংগঠনের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে দ্রুত কূটনৈতিক স্তরে হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে বন্দি মৎস্যজীবীদের মুক্ত করা যায়।

ইতিহাসও একই বলছে

এর আগে বহুবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় মৎস্যজীবীরা অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়লে সেখানকার নৌবাহিনী ট্রলারসহ তাদের আটক করে। পাল্টা হিসাবে ভারতেও একাধিকবার আটক করা হয়েছে বাংলাদেশি মৎস্যজীবী। পরে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বন্দি মুক্তির ব্যবস্থা হয়েছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমিতে নতুন মাত্রা

এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক উত্তপ্ত। গত বছর বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের বারবার আটক হওয়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

প্রশাসনের উদ্বেগ, নজর এখন ভারতের অবস্থানের দিকে

ভারতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও, পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিষয়টি নজরে রাখা হয়েছে বলে সূত্রে খবর। কাকদ্বীপের স্থানীয় প্রশাসনও যথাযথ রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, ভারত সরকার এই ৪৮ জন মৎস্যজীবীর মুক্তির জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং কূটনৈতিক স্তরে এই উত্তেজনার নিরসনে কী উদ্যোগ নেয়।
এই মুহূর্তে কাকদ্বীপের প্রতিটি মৎস্যজীবী পরিবার উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *