পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত তিনজন জঙ্গির পাকিস্তানি যোগসূত্রের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জারি করা বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা তাদের পাকিস্তানি নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে।
নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট। ২২ এপ্রিল পহেলগামে পর্যটকদের উপর নৃশংস জঙ্গি হামলায় জড়িত তিন সন্ত্রাসবাদীর পরিচয় নিয়ে আর কোনও সন্দেহ রইল না। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হাতে এসেছে দৃঢ় ও চূড়ান্ত প্রমাণ—তিনজনই পাকিস্তানি নাগরিক, এবং তারা লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি গোষ্ঠীর সিনিয়র অপারেটিভ ছিল।
উদ্ধার হওয়া প্রমাণে স্পষ্ট পাকিস্তান যোগ
ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা বিভাগের দাবি, জঙ্গিদের কাছ থেকে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ইস্যু করা ভোটার আইডি কার্ড, পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের ল্যামিনেটেড ভোটার স্লিপ, এবং NADRA (পাকিস্তানি জাতীয় তথ্যভাণ্ডার) থেকে ইস্যু করা স্মার্ট-আইডি চিপস উদ্ধার হয়েছে। এমনকি উদ্ধার হয়েছে ভাঙা স্যাটেলাইট ফোন এবং তার ভেতর থাকা মাইক্রো SD কার্ড, যার মধ্যে তিন জঙ্গির বায়োমেট্রিক রেকর্ড সংরক্ষিত ছিল।
এই সমস্ত ডিজিটাল ও শারীরিক প্রমাণের ভিত্তিতে পাকিস্তানি নাগরিকত্ব, স্থায়ী ঠিকানা এবং লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
২৮ জুলাই, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ‘অপারেশন মহাদেব’ পরিচালনা করে পহেলগাঁও হামলার পেছনে থাকা এই তিন জঙ্গিকে নিকেশ করে। এই জঙ্গিরা গত ২২ এপ্রিল বাইসারনে ২৬ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার ঘটনায় জড়িত ছিল। পহেলগাঁও হামলায় মূলত হিন্দু তীর্থযাত্রীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।
তদন্তে ফরেনসিক প্রমাণ, উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান থেকে স্পষ্ট যে, এই তিনজনই পাকিস্তানের নাগরিক এবং লস্কর-ই-তৈয়বার সিনিয়র অপারেটিভ ছিল। হামলার পর থেকে এই জঙ্গিরা দাছিগাম-হরবনের জঙ্গলে লুকিয়ে ছিল। বিশেষত উল্লেখ্য, এই হামলাকারীদের মধ্যে কোনো স্থানীয় কাশ্মীরি জঙ্গি ছিল না।
স্থানীয়দের জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ নেই
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে—এই হামলায় কাশ্মীরের কোনও স্থানীয় ব্যক্তি জড়িত ছিল না। নিহত তিনজন জঙ্গির মধ্যে কেউই ভারতের নাগরিক নয়, বরং পাকিস্তানের করাচি এবং সংলগ্ন অঞ্চল থেকে এসেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে।
ফরেনসিক ও ব্যালিস্টিক রিপোর্টে মিলেছে মিল
ঘটনার তদন্তে ব্যবহৃত হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষণ, ব্যালিস্টিক রিপোর্ট, এবং চোখে দেখা প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান। সমস্ত কিছু একত্রিত করে স্পষ্ট হয়েছে, এই হামলা ছিল পাকিস্তান পরিকল্পিত এবং পরিচালিত।
সেনা ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, “এই ঘটনার প্রমাণ পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ রপ্তানির জোরালো উদাহরণ। আন্তর্জাতিক মহলে এই প্রমাণগুলি তুলে ধরার জন্য রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।”
এই হামলার পর কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে দাচিগাম-হারওয়ান অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যেখানে এই জঙ্গিরা আড়াল হয়ে ছিল।
এই হামলা ফের একবার প্রমাণ করল—জঙ্গিবাদে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ও সীমান্ত পেরিয়ে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা এখনও অব্যাহত।