উত্তর প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যজুড়ে নদীগুলো ফুঁসছে। চম্বল, বেতওয়া, কেন এবং কুয়ারির মতো নদীগুলো যমুনায় মিশে প্রয়াগরাজে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির জেরে ৪৪টি জেলায় স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজ ফ্রন্ট, প্রয়াগরাজ:
উত্তর প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে রাজ্যের প্রায় সমস্ত প্রধান নদীগুলো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে হওয়া বৃষ্টির প্রভাবও এখানকার নদীগুলোতে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান থেকে আসা চম্বল, বেতওয়া, কেন এবং কুয়ারির মতো নদীগুলো যমুনার সঙ্গে মিশে প্রয়াগরাজে বন্যার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর ফলে জালোন, হামিরপুর, কানপুর, ফতেহপুর এবং প্রয়াগরাজের নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রয়াগরাজে গঙ্গা-যমুনা নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়েছে, যার ফলে বহু বাড়িতে জল ঢুকে গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক এবং ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সব জেলায় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজের নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রত্যেক মন্ত্রীর ওপর একটি করে জেলার দায়িত্ব দিয়েছেন। একই সাথে, প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজ্যের ৪৪টি জেলার স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে হওয়া অতিবৃষ্টির জল দ্রুত বইয়ে নিয়ে আসছে নদীগুলি। যার ফলে প্রয়াগরাজ ও পার্শ্ববর্তী জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জেলা প্রশাসনের তরফে নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সকলকে নিচু এলাকা থেকে সরে উঁচু এবং নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, জরুরি নম্বর চালু রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য।
উত্তরপ্রদেশের এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কাঁধে এখন বড় দায়িত্ব—মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা।
এই একটানা বৃষ্টির ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।