ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (JMM) প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেন আজ সকালে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
নিউজ ফ্রন্ট, ৪ আগস্ট, নয়াদিল্লি –
ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও অভিভাবক শিবু সোরেন আজ সকালে দিল্লির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। আজ সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে ৮১ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান হয়।
শিবু সোরেন দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন, যার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় এবং অবনতি ঘটলে গত কয়েকদিন ধরে তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
শিবু সোরেন ছিলেন ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের অন্যতম পুরোধা। তাঁর নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM), যার তিনি দীর্ঘ ৩৮ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীকালে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং তিনবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তাঁর পুত্র হেমন্ত সোরেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী এবং JMM-এর সভাপতি পদে রয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া
শিবু সোরেনের প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শিবু সোরেন একজন মাটির মানুষ ছিলেন, যিনি জনগণের প্রতি অটল নিষ্ঠা নিয়ে জনজীবনে কাজ করেছেন। বিশেষত আদিবাসী সম্প্রদায়, দরিদ্র এবং দলিতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তিনি আবেগপ্রবণ ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, তাঁর প্রয়াণে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত এবং তিনি হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও ‘এক্স’-এ পোস্ট করে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম বরিষ্ঠ নেতা শিবু সোরেনকে ঝাড়খণ্ডের সেই শক্তিশালী নেতাদের মধ্যে গণ্য করা হত, যারা সমাজের দুর্বল শ্রেণী, বিশেষত উপজাতি সমাজের অধিকার এবং তাদের ক্ষমতায়নের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি সর্বদা মাটি এবং জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে আমি খুব দুঃখিত।”
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শিবু সোরেনের প্রয়াণকে সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে একটি বড় ক্ষতি বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “শিবু সোরেনের জীবনাবসান সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে একটি বড় ক্ষতি। তিনি আদিবাসী পরিচয় এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের জন্য সংগ্রাম করেছেন। মাঠপর্যায়ে কাজ করার পাশাপাশি তিনি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য হিসেবেও অবদান রেখেছেন।” রাষ্ট্রপতি তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
শিবু সোরেনের মৃতদেহ ঝাড়খণ্ডে নিয়ে যাওয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে শোকসভা এবং দলীয় কার্যালয়ে উত্তোলিত হয়েছে কালো পতাকা।
শিবু সোরেনের প্রয়াণে শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, সারা দেশের আদিবাসী রাজনীতি ও সমাজকল্যাণের এক পথপ্রদর্শক হারাল। তাঁর মতো নেতৃত্ব আজকের সমাজে এক উদাহরণ হয়ে থাকবে।