দেশের বৃহত্তম পাট উৎপাদক জেলায় সূচনা হলো জাতীয় পাট দিবসের, চালু হলো ‘পাট মিত্র’ অ্যাপ
দেশের মধ্যে সবথেকে বড় পাট উৎপাদক জেলা হিসেবে মুর্শিদাবাদের একটি বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী জেলা থেকেই আজ প্রথমবারের মতো শুরু হলো জাতীয় পাট দিবস উদযাপন। এখন থেকে প্রতি বছর এই দিনটি দেশজুড়ে জাতীয় পাট দিবস হিসেবে পালিত হবে, যা পাট শিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য এক নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।
নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ, ২৯ জুলাই ২০২৫: বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে আজ মুর্শিদাবাদের লালবাগ আয়েশাবাগে জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (JCI)-এর বিভাগীয় ক্রয় কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পাট দিবসের সূচনা হয়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জুট বোর্ডের কমিশনার মলয় চন্দন চক্রবর্তী এবং JCI-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শশীভূষণ সিং সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পাট চাষী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অতিথিদের সরাসরি মতবিনিময়। কমিশনার মলয় চন্দন চক্রবর্তী এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর শশীভূষণ সিং পাট চাষীদের সমস্যা, পাটের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি এবং বাজারের চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা পাট শিল্পের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন এবং চাষীদের আশ্বস্ত করেন যে, তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।
মতবিনিময় পর্বের পর, সারগাছি ও ধান্যগঙ্গা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের সঙ্গে এক নিবিড় কর্মশালায় শামিল হন। এই কর্মশালায় পাট চাষের আধুনিক পদ্ধতি, উন্নত বীজ ব্যবহার, রোগ প্রতিরোধ এবং পাটের গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। কৃষকরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পান এবং নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারেন।
এই অনুষ্ঠানে ‘পাট মিত্র’ নামে একটি কৃষি সহায়ক অ্যাপও চালু করা হয়। এই অ্যাপটি পাট চাষীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পাটের বাজার মূল্য, সরকারি ভর্তুকি এবং নতুন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য পাবেন, যা তাদের চাষাবাদে আরও বেশি সহায়তা করবে।
জাতীয় পাট দিবস উদযাপনের এই উদ্যোগ পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এর অর্থনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাট কেবল একটি কৃষি পণ্য নয়, এটি পরিবেশবান্ধব এবং বহু মানুষের জীবিকার উৎস। এই ধরনের উদ্যোগ পাট চাষীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং পাট শিল্পকে আরও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে।
মুর্শিদাবাদ থেকে জাতীয় পাট দিবসের সূচনা পাট শিল্পের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। সরকার, কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই শিল্প ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।