নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি | ২৮ জুলাই, ২০২৫
ভারতের দ্রুত‑বিস্তৃত ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে কেন্দ্র সরকার একাধিক কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI), ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCI) এবং সরকার সম্মিলিতভাবে সময় সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে ডিজিটাল লেনদেনগুলি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়।
ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকগুলির জন্য ন্যূনতম নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করার নির্দেশিকা জারি করেছিল। এই নির্দেশিকাগুলির অধীনে ব্যাংকগুলিকে সাইবার নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী এনক্রিপশন, ডেটা সুরক্ষা প্রোটোকল এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা। এই পদক্ষেপগুলি ডিজিটাল লেনদেনকে হ্যাকিং এবং অন্যান্য সাইবার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI) ভিত্তিক প্রতারণা মোকাবিলায় ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডিভাইস-বাইন্ডিং’, যেখানে লেনদেনের জন্য নির্দিষ্ট ডিভাইস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়াও, দুই-স্তরের প্রমাণীকরণ (যেমন পিন) এবং লেনদেনের সীমা নির্ধারণের মতো সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি কার্যকর করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি প্রতারণার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে সাহায্য করছে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নিরাপদ লেনদেন পরিবেশ তৈরি করছে।
ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের জনসচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে। এসএমএস, রেডিও এবং অন্যান্য গণমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে সাইবার প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সাইবার অপরাধের রিপোর্ট করার জন্য একটি ডেডিকেটেড পোর্টাল এবং একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা সহজেই তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন এবং দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন।
টেলিকম বিভাগও ডিজিটাল পেমেন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম’ এবং ‘চক্ষু’র মতো প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ সন্দেহজনক কল এবং মেসেজ সম্পর্কে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। এই উদ্যোগগুলি সাইবার প্রতারকদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করে।
পঙ্কজ চৌধুরীর কথায়, “ডিজিটাল লেনদেনকে সহজ, সাশ্রয়ী ও শতভাগ সুরক্ষিত করা আমাদের অঙ্গীকার। অর্থনীতি ‘নগদ‑বিহীন’ অভিযাত্রায় এগোচ্ছে, এবং এ লক্ষ্যেই সরকার, আরবিআই ও এনপিসিআই মিলিতভাবে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি‑আপডেট, নীতি‑নিয়ন্ত্রণ ও জন‑সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগগুলি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে অনলাইন ফ্রড ৩০‑৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা। একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট‑হোল্ডারের দায়বদ্ধতাও বাড়ছে—পাসওয়ার্ড ও পিন গোপন রাখা এবং সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করাই সাইবার‑সুরক্ষার প্রথম শর্ত।
দ্রুত প্রতিক্রিয়া, কড়া নিয়ম ও প্রযুক্তি‑নবায়ন—এই ত্রিমাত্রিক রূপরেখাই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে সুরক্ষার বর্ম জোগাচ্ছে।