নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের মুখে বিশ্বের বৃহত্তম বাদাবন, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে পালন করা হলো বিশেষ দিন
সুন্দরবন, ২৬ জুলাই ২০২৫: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভের বাদাবন সুন্দরবন, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারে বারে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, আজ নিজেই এক বড় সংকটের মুখে। নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের কারণে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, সুন্দরবনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে ম্যানগ্রোভ রোপনের এক বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
আজ সাগর পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে দিনটি বিশেষভাবে পালন করা হয়। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেক কেটে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে ম্যানগ্রোভ রোপনের তাৎপর্য এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে পঞ্চায়েত সমিতির পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন এবং এই মহৎ উদ্যোগে তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেন।
সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য শুধুমাত্র একটি বাস্তুতন্ত্র নয়, এটি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য এক প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই ম্যানগ্রোভের ঘন জঙ্গল প্রথম আঘাত শোষণ করে জনবসতিকে রক্ষা করে। তবে, কাঠ সংগ্রহ, চিংড়ি চাষের জন্য জলাভূমি তৈরি, এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করা হচ্ছে। এটি কেবল পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে না, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকাকেও বিপন্ন করে তুলছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি একত্রিত হয়ে এই রোপন অভিযানকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাদের লক্ষ্য, শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং স্থানীয় মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
এই উদ্যোগ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা আগামী প্রজন্মের জন্য এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক হবে।