রেজিনগরে তৃণমূল কর্মী খুন: বিজেপির দিকে অভিযোগ, অধীর চৌধুরীর মন্তব্য ‘অষ্টম আশ্চর্য’

মুর্শিদাবাদে ফের রাজনৈতিক খুন, ২১ জুলাই আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যু পতিতের

মুর্শিদাবাদ, ২৬ জুলাই ২০২৫: মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে এক তৃণমূল কর্মীর খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম পতিত পাল (৪৩)। ২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসের দিন আক্রান্ত হওয়ার পর গতকাল রাতে (২৫ জুলাই) মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবার এই খুনের জন্য সরাসরি বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসের দিন পতিত পাল টোটো করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর টোটো থামিয়ে তাঁকে টেনে হিঁচড়ে পাশের মাঠে নিয়ে গিয়ে শাবল ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর বিজেপির কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছিলেন পতিত। সেই ঘটনায় একটি মামলা চলছিল। আসামিপক্ষের এক যুবকের চাকরির জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন হচ্ছিল না, যার কারণে পতিত পালকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিজেপির পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়াতেই তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। রেজিনগর থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরীও এই অভিযোগের সমর্থন করে বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় নিহত তৃণমূল কর্মীর উপর আক্রমণ হয়। উনি পুলিশে একটা মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়াতেই এই খুন।”

এই ঘটনা প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “রেজিনগরের মতো জায়গায় বিজেপির হাতে তৃণমূলের হত্যা, এটা আমার কাছে অষ্টম আশ্চর্য।” তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, রেজিনগর মূলত তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি, সেখানে বিজেপির হাতে এমন ঘটনা ঘটা অপ্রত্যাশিত।

মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, “খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছিল। নতুন করে খুনের অভিযোগ যুক্ত হবে। ঘটনায় যুক্ত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করতে তল্লাশি চলছে।”

এই ঘটনা মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে এই খুনের ঘটনা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *