মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে তৃণমূল কর্মী খুন: পুলিশি তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

সেহালা গ্রামে ধারালো অস্ত্রের কোপে মৃত্যু, পরিবারের দাবি রাজনৈতিক; পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ব্যক্তিগত শত্রুতা

মুর্শিদাবাদ, ২৪ জুলাই ২০২৫: মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার সেহালা আলুগ্রাম এলাকায় গতরাতে অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী খুন হয়েছেন। নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম ষষ্ঠী ঘোষ, তাঁর বাড়ি সেহালা গ্রামে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

মৃতের পরিবারের দাবি, নিহত ষষ্ঠী ঘোষ ভরতপুর-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নজরুল ইসলাম ওরফে টারজান এবং স্থানীয় আলুগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের অনুগামী ছিলেন। গতকাল বিকেলে জমির মজুর খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। রাত ৮টা নাগাদ বাইকে চড়ে বাড়ি ফেরার পথে কুয়ে নদীর বাঁধের উপর বাইকে করে আসা একদল দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ছুটে এসে ভরতপুর থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:

মৃত ষষ্ঠী ঘোষ একজন পুরনো দুষ্কৃতী ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, অস্ত্র আইন সহ একাধিক মামলা রুজু ছিল। তিনি নিয়মিত থানায় হাজিরা দিতেন।  এই খুনের তদন্তে নেমে ভরতপুর থানার পুলিশ আলুগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মৌসুমী ঘোষের স্বামী মিহির ঘোষ সহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই খুনের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক যোগ নেই। এটি পূর্ব শত্রুতার জেরেই ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী কড়া মন্তব্য করে বলেন, “বখরার মারামারি, রসদ কম চোর বেশি, সব চোর তৃণমূলে। দিদি অত রসদ দিতে পারছে না, দিদির ঘরে অতো খাবার নেই। এবার দিদির চোর ভাইয়েরা খুনোখুনি করে সংখ্যা কমাচ্ছে। জানি না সামনে আরও কত তৃণমূল নেতার নাম্বার লেগে আছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘটনার রাজনৈতিক দিক নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।

ষষ্ঠী ঘোষের হত্যাকাণ্ড ভরতপুর এলাকায় এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের বলে মনে করছে, পরিবারের রাজনৈতিক যোগের দাবি তদন্তের জটিলতা বাড়িয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা এখন সবচেয়ে জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *