গাজিয়াবাদে ভুয়ো দূতাবাসের পর্দাফাঁস, এসটিএফ-এর জালে ধৃত হর্ষবর্ধন জৈন

ভুয়া দূতাবাস চালিয়ে বিদেশি চাকরি ও হাওয়ালা র‍্যাকেট চালাত হর্ষবর্ধন জৈন, কোটি টাকার প্রতারণার উন্মোচন

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই:

বর্তমান সমাজে প্রতারণার ধরন যেমন বদলেছে, তেমনই প্রতারকরা ব্যবহার করছে নানা অভিনব কৌশল। কখনও নিজেকে কূটনীতিক পরিচয়ে জাহির করে, তো কখনও বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চলছে দুর্বার প্রতারণা। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর্দাফাঁস করেছে রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ভাড়া নেওয়া বাড়িতে ‘ভুয়ো দূতাবাস’ চালিয়ে বহু মানুষকে প্রতারণা করছিল এক ব্যক্তি, যার পরিচয় ও কার্যকলাপ তদন্তে নেমে তাজ্জব গোয়েন্দারা।এই অভিযানে অবৈধ দূতাবাস পরিচালনাকারী মূল অভিযুক্ত হর্ষবর্ধন জৈন-কে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

কবিনগরের বাসিন্দা হর্ষবর্ধন জৈন কবিনগরে একটি ভাড়া বাড়িতে অবৈধভাবে দূতাবাস চালাচ্ছিল। সে নিজেকে  ‘ওয়েস্ট আর্কটিকা’, ‘সবোরগা’, ‘পল্ভিয়া’ এবং ‘ল্যাডোনিয়া’র মতো কাল্পনিক দেশগুলির রাষ্ট্রদূত (অ্যাম্বাসেডর) বলে পরিচয় দিত। নিজের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করতে, সে কূটনৈতিক নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি ব্যবহার করত এবং বড় বড় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তার সম্পাদিত (মর্ফ করা) ছবি দেখাত।

ইউপি এসটিএফের নয়ডা ইউনিট ২২ জুলাই ২০২৫ তারিখে গাজিয়াবাদের কবিনগর থেকে হর্ষবর্ধন জৈন-কে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে এসটিএফ তার কাছ থেকে চারটি কূটনৈতিক গাড়ি, ১২টি ভুয়া পাসপোর্ট, বিদেশ মন্ত্রকের নকল সিলমোহর, নকল প্যানকার্ড, প্রেস কার্ড, ৪৪.৭০ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করেছে।

অভিযুক্ত মূলত কোম্পানি এবং ব্যক্তিদের বিদেশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দালালি করত। এছাড়াও, সে শেল কোম্পানিগুলির মাধ্যমে একটি বড় হাওয়ালা র‍্যাকেটও চালাত। তদন্তে আরও জানা গেছে যে, তার সম্পর্ক কুখ্যাত চন্দ্রস্বামী এবং আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাগোশির সঙ্গেও ছিল, যা এই মামলার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।

এসএসপি, এসটিএফ সুশীল ঘুলে এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “হর্ষবর্ধন জৈন একটি বড় জালিয়াতির মূল পরিকল্পনাকারী ছিল, যে মানুষকে ঠকাতে সুপরিকল্পিতভাবে একটি অবৈধ দূতাবাসের জাল বিছিয়েছিল। আমাদের দল কঠোর পরিশ্রমের পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং পরবর্তী তদন্ত চলছে।”

কবিনগর থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ এই পুরো নেটওয়ার্কে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সন্ধান করছে। এই ফাঁস হওয়া ঘটনা থেকে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।


এই ঘটনাটি ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, কীভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এবং মানুষের বিশ্বাসকে হাতিয়ার করে প্রতারকরা সংগঠিত অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতায় এই ভুয়ো কূটনীতিকের মুখোশ খুলে গেলেও, এটি যে একটি বৃহৎ প্রতারণা চক্রের অংশ— তা স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন, এমন আরও কতজন প্রতারক সমাজে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে? তাই শুধুমাত্র আইন বলবৎ করাই নয়, সাধারণ মানুষকেও হতে হবে আরও বেশি সচেতন এবং সতর্ক। তদন্ত শেষ হলে আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *