NDPS আইনের অধীনে মুর্শিদাবাদে ফের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, এবার লালগোলায় অভিযুক্তের ৭৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি জব্দ

মুর্শিদাবাদ, ২৩ জুলাই ২০২৫:  রাজ্যে NDPS (Narcotic Drugs and Psychotropic Substances) আইনের অধীনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। লালগোলার বাসিন্দা গোলাম মুস্তাফা ওরফে মঙ্গলার পরিবারের নামে থাকা প্রায় ৭৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই সম্পত্তিগুলি মাদক পাচার থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছিল।

জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এনডিপিএস (NDPS) আইনের আওতায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া মঙ্গলবার সম্পূর্ণ হয়। এর আগে গোলাম মুস্তাফার বিরুদ্ধে NDPS আইনে একটি মামলা দায়ের হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে একাধিক জমি ও নির্মাণাধীন বাড়ি। তদন্ত চলাকালীনই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার করতে ভবিষ্যতেও এমন পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার জানান, “মাদক চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা বেআইনিভাবে মাদক ব্যবসা করে সম্পত্তি গড়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় লালগোলা-সহ আশেপাশের এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের সক্রিয় পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকেও মাদক বিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি জুলাই মাসের ১২ তারিখে, NDPS এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর প্রয়োগে রাজ্যে প্রথমবার মাদক ও প্রতারণা সংক্রান্ত তিনটি বড় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সেগুলি হল:

  • রানীনগরে এক প্রতারণা মামলায় ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তি,
  • ডোমকল এবং জলঙ্গিতে দুই মাদক কারবারির ১ কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি।

এই তিনটি ঘটনায় বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ৪.৩৬ কোটি টাকা, এবং প্রশাসন জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সেই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি থেকেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

রাজ্যের নিরাপত্তা প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, NDPS আইনের পাশাপাশি BNS-এ অন্তর্ভুক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের অধিকার এখন নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল অপরাধ দমন নয়, একইসঙ্গে আর্থিকভাবে অপরাধীদের দুর্বল করে দেওয়ার একটি বড় কৌশল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *