ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় আচমকাই পদত্যাগ করলেন। তিনি পদত্যাগের পেছনে ‘স্বাস্থ্য সমস্যা’র কথা বললেও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কারণ দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কপিল সিবাল, কুণাল ঘোষ থেকে জয়রাম রমেশ—সকলেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
নিউজ ফ্রন্ট, ২২ জুলাই, নয়াদিল্লি —
ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পাঠানো চিঠিতে সংবিধানের ৬৭(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবিলম্বে পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এখন তাঁর স্বাস্থ্যই অগ্রাধিকার।
রাজ্যসভার প্রিসাইডিং অফিসার ঘনশ্যাম তিওয়ারি সংসদে তাঁর ইস্তফার কথা জানান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
ধনখড় তাঁর চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং সংসদের সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন, “আমি তাঁদের কাছ থেকে অনেক শিখেছি। স্বাস্থ্যসেবা এখন আমার প্রাধান্য, তাই এই সিদ্ধান্ত।” তিনি নিজের ইস্তফাপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘এক্স’-এ প্রকাশও করেন।
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে লেখেন, “শুধুই কি স্বাস্থ্যজনিত? কৌতূহল রইল।”
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন—
“বিকেলে BAC মিটিংয়ে ধনখড়জিকে না জানিয়েই জেপি নাড্ডা ও কিরেন রিজিজু অনুপস্থিত ছিলেন। এর পরেই ধনখড় মিটিং বাতিল করেন এবং আজ ইস্তফা দেন। এটা নিছক স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং অন্য রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে সরে যেতে হয়েছে।”
কংগ্রেসের বক্তব্য, ধনখড় মাঝেমধ্যে মোদি সরকারের ‘অহংকার’, বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ইত্যাদি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। বিরোধীদের জন্য জায়গা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। ফলে তাঁর পদত্যাগ সেই ‘G2’ সরকারে অস্বস্তি ও অন্তর্দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত।
কপিল সিবাল বললেন: “ধনখড়জির সঙ্গে আমার ৩০–৪০ বছরের সম্পর্ক। আমরা আইনি লড়াই করেছি, পারিবারিক সম্পর্কও ছিল। আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি। রাজনীতি আলাদা, সম্পর্ক অন্য।”
ধনখড়ের পদত্যাগ একদিকে স্বাস্থ্য সমস্যাকে ইঙ্গিত করলেও, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শাসক দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন যে এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে—তা বলছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তাঁর পদের মেয়াদ বাকি থাকতে এমন ‘চমকপ্রদ’ সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে জাতীয় রাজনীতিতে এক আলোচনার বিষয়।