২০০৬ সালের মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণ কাণ্ডে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস ১২ জন অভিযুক্ত

উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ১২ আসামিকে মুক্তি; এ.টি.এস. পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবে

নিউজ ফ্রন্ট, মুম্বাই, ২১ জুলাই: ২০০৬ সালের মুম্বইয়ের ধারাবাহিক ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় আজ এক যুগান্তকারী রায় দিল বম্বে হাইকোর্ট। প্রমাণের ঘাটতির কারণে মামলার ১২ জন অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস করল বিচারপতি অনিল কিলোর এবং বিচারপতি শ্যাম চন্দকের স্পেশাল ডিভিশন বেঞ্চ।এই রায়টি ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মামলার প্রেক্ষাপট পূর্ববর্তী রায়:

২০০৬ সালের ১১ জুলাই মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনে পরপর সাতটি বোমা বিস্ফোরণে ১৮৯ জন নিহত এবং ৮২৪ জন আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনা সারা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। এই হামলার তদন্তে মহারাষ্ট্র অর্গানাইজড ক্রাইম কন্ট্রোল অ্যাক্ট (মকোকা) এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর, ২০১৫ সালের অক্টোবরে বিশেষ আদালত এই মামলায় ১৩ জন আসামির মধ্যে ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। এর মধ্যে পাঁচজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্টের রায় পর্যবেক্ষন:

বিশেষ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেছিল, অন্যদিকে দোষীরা তাদের সাজার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে এই মামলার শুনানি চলছিল বম্বে হাইকোর্টে। আজ রায় ঘোষণার সময় হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে যে, অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন পক্ষ চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে যে, তদন্তকারী সংস্থা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত প্রমাণ, আসামিদের কাছ থেকে হস্তগত করা উপকরণ এবং তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি। আদালত আরও জানায় যে, সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় পদ্ধতিগত এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, এবং কোনো সাক্ষীর জবানবন্দিই আদালতের কাছে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। ফলস্বরূপ, হাইকোর্ট পূর্ববর্তী বিশেষ সেশন আদালতের দেওয়া রায় বাতিল করে সকল আসামিকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে।

আসামিদের অবস্থা এ.টি.এস-এর প্রতিক্রিয়া:

এই বারো জন আসামির মধ্যে একজন, যিনি এই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, ২০২১ সালে কোভিড-১৯ এর কারণে মারা গিয়েছিলেন। বাকি ১১ জন এখন মুক্তি পাবেন।

এই রায়ের পর মহারাষ্ট্র এ.টি.এস. (Maharashtra ATS) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা বর্তমানে আদালতের বিস্তারিত রায়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করছে। এ.টি.এস. আরও জানিয়েছে যে, তারা আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করার পর এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

এই রায়টি বোমা হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে, প্রমাণের অভাবে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তির গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে। একটি ঐতিহাসিক রায়, যা বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত। তবে একই সঙ্গে এত বড় একটি ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের খোঁজ না পাওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া গেল কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *