NEWS FRONT | ১৪ জুলাই | বহরমপুর:
দেশের সুরক্ষায় জীবন বাজি রেখে লড়েছেন সীমান্তে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ অংশ নেওয়া বিএসএফ জওয়ান শুভজিৎ রায় ছুটি কাটাতে বাড়ি ফিরতেই জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে জানানো হলো শ্রদ্ধা ও সম্মান।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কাশিমবাজারের বাসিন্দা শুভজিৎ গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘটিত একাধিক সন্ত্রাস দমন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জম্মুর সাম্বা সেক্টরে কর্মরত এই বিএসএফ ১২৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান সম্প্রতি ২০ দিনের ছুটিতে বাড়ি ফিরেছেন।
প্রশাসনের তরফে সম্মাননা:
সোমবার জেলা প্রশাসনিক ভবনে শুভজিৎ রায়কে সংবর্ধনা জানায় মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক রাজর্ষি মিত্র, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) চিরন্তন প্রামাণিক এবং অন্যান্য আধিকারিকরা।
সাহসিকতার স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং আগামী দিনের জন্য শুভেচ্ছাও জানানো হয়। সংবর্ধনা পেয়ে আপ্লুত শুভজিৎ বলেন—
“দেশের সুরক্ষায় অংশ নিতে পারাটা আমার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। যতদিন বেঁচে আছি, দেশের সেবা করে যেতে চাই।”
অপারেশন সিঁদুর: কী ঘটেছিল সেই রাতে?
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের উপরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন নিরীহ মানুষ। এর পালটা জবাবেই শুরু করে ভারত যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারতীয় সেনার অভিযানে ধ্বংস হয়ে যায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি। কমপক্ষে ১০০-র বেশি জঙ্গি নিহত হয়।
ভারতের হামলায় ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান প্রথমে কূটনৈতিক স্তরে চুপ থাকলেও, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্তে আক্রমণ শুরু করে। জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থান, এবং গুজরাট সীমান্তে একসঙ্গে চালায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। পাকিস্তানের এই হামলায় মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় সেনা ক্যাম্প ও বিমানঘাঁটি। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তিশালী প্রতিরোধে সেই হামলা ব্যর্থ হয়। ভারতও পালটা জবাবে পাকিস্তানের ১১টি বায়ুসেনা ঘাঁটিতে আঘাত হানে যা মূলত ছিল করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, ও পাঞ্জাব প্রদেশ সংলগ্ন অঞ্চলে। ভারত এই হামলা ঠেকাতে দ্রুত S-400 এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। এই দুই দিন ধরে চলতে থাকা আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে আন্তর্জাতিক মহল চিন্তিত হয়ে পড়ে। জাতিসংঘ, আমেরিকা, ফ্রান্স, এবং রাশিয়া কূটনৈতিকভাবে উভয় পক্ষকে “সংঘর্ষবিরতির” আহ্বান জানায়। প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। ভারত সুনির্দিষ্ট শর্তে যুদ্ধবিরতির জন্য সম্মতি জানায়—নতুন করে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বন্ধ রাখতে হবে এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে হবে।
সংবর্ধনার দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভজিৎ রায় বলেন,
“সীমান্তে প্রতিদিনই যুদ্ধের পরিস্থিতি। কিন্তু সাহস, প্রশিক্ষণ আর মনোবল থাকলে লড়াই সম্ভব। দেশের জন্য কিছু করতে পেরে গর্বিত।” কিভাবে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সীমাতে লড়াই করে ছিলেন সেসব কথা শোনালেন।
তাঁর স্ত্রী রিয়া রায় বলেন, “ভয় ছিল, কিন্তু বিশ্বাস ছিল ও ফিরবেই। ওর মতো সাহসী স্বামী পেয়ে আমি গর্বিত।”
বীরত্ব শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, সাহসিকতা, আত্মত্যাগ আর দায়িত্ববোধের মধ্যেও। মুর্শিদাবাদের ভূমি এক সাহসী সন্তানকে পেয়েছে, আর রাজ্য পেয়েছে এক বীর সেনানী—শুভজিৎ রায়।
শুধু সীমান্তে লড়াই নয়, সাহসিকতা আর দায়িত্ববোধই গড়ে তোলে সত্যিকারের বীরকে।
শুভজিৎ রায়ের গল্প কেবল একজন জওয়ানের গল্প নয়—
এ এক অনুপ্রেরণা, যা নতুন প্রজন্মকে শেখায় দেশপ্রেম, সাহস আর আত্মত্যাগের মানে।
News Front-এর পক্ষ থেকে শুভজিৎ ও তাঁর পরিবারকে জানাই কুর্নিশ।
দেশ আপনার গর্ব, আপনি দেশের।