News Front, ১২ জুলাই ২০২৫
গত ১২ জুন আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB)। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য – টেকঅফের পরপরই বিমানের দুটি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে (স্থানীয় সময়) আহমেদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এআই-১৭১ ফ্লাইট। বিমানে ছিল ২৩০ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু মেম্বার। টেকঅফের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি আহমেদাবাদের বিজে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
এই দুর্ঘটনায় বিমানের ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জন (২২৮ যাত্রী ও ১২ ক্রু সহ) মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও ভূমিতে ১৯ জন নিহত এবং ৬৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

কী ঘটেছিল আকাশে?
AAIB-র প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে তা রীতিমতো আঁতকে দেওয়ার মতো। ফ্লাইট রেকর্ডারের তথ্য অনুযায়ী: বিমানটি ভূমি থেকে ৩৯ সেকেন্ড উড্ডয়নের পর ১৮০ নট গতিতে পৌঁছায়। এর পরপরই হঠাৎ করে দুটি ইঞ্জিনের ফুয়েল কাটঅফ সুইচ ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’ অবস্থানে চলে যায়। মাত্র ১ সেকেন্ড ব্যবধানে একটির পর একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় ফ্লাইট রেকর্ডার থেকে জানা গেছে, ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ দুটিই “RUN” থেকে “CUTOFF” পজিশনে চলে যায়। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে এক পাইলট অপর পাইলটকে জিজ্ঞেস করেন:
“তুমি বন্ধ করলে?”
উত্তরে অপর পাইলট বলেন, “আমি করিনি।”

ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পর অবিলম্বে র্যাম এয়ার টার্বাইন (RAT) স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়। এরপর পাইলটরা ইঞ্জিন দুটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করেন। প্রথমে ইঞ্জিন ১ এবং তারপর ইঞ্জিন ২-এর ফুয়েল কাটঅফ সুইচ আবার ‘RUN’ অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়।
যদিও দুটি ইঞ্জিনেই পুনরায় ইগনিশন শুরু হয়েছিল, কিন্তু ততক্ষণে বিমানটি অনেক উচ্চতা হারিয়ে ফেলেছিল। সাড়ে ৮টায় (UTC) একজন পাইলট “MAYDAY MAYDAY MAYDAY” কল করেছিলেন, কিন্তু ATC-র সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি।

এ পর্যন্ত তদন্তে যা জানা গেছে:
• বিমানটি পাঁচটি ভবনে আঘাত হেনেছিল
• র্যাক্সেজ ১০০০ ফিট x ৪০০ ফিট এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিল
• ফ্লাইট রেকর্ডার থেকে প্রায় ৪৯ ঘন্টার ফ্লাইট ডেটা এবং ২ ঘন্টার অডিও উদ্ধার করা হয়েছে
• জ্বালানি নমুনা পরীক্ষায় কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি
• বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড অনুযায়ী সব কিছু স্বাভাবিক ছিল

এই তদন্তে অংশ নিয়েছে আমেরিকার NTSB, বোয়িং কোম্পানি, জেনারেল ইলেকট্রিক এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল ও কানাডার তদন্তকারী দল এসেছিল, কারণ দুর্ঘটনায় এই দেশগুলোর নাগরিকরাও নিহত হয়েছিল।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে গেছে – কীভাবে এবং কেন দুটি ইঞ্জিনের ফুয়েল কাটঅফ সুইচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেল? কক্ষপিট ভয়েস রেকর্ডিং অনুযায়ী কোনো পাইলটই এটা করেননি। এই রহস্যের সমাধান হলেই কেবল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে।
AAIB জানিয়েছে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়া এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
