আজ, ১১ই জুলাই, পালিত হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা থেকে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি, মাতৃত্ব ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় পরিকল্পিত গর্ভধারণের গুরুত্বের বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে আজকের এই বিশেষ দিনে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা জানিয়েছেন, পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশজুড়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১১ জুলাই:
আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। প্রতি বছর ১১ই জুলাই তারিখে এই দিনটি পালিত হয়, যাতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় এবং তার সঙ্গে যুক্ত পরিবেশগত ও আর্থ-সামাজিক প্রভাবগুলির দিকে দৃষ্টি দেওয়া যায়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে এই দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয় ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই, বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে।
এবারের থিম:
“Healthy Timing and Spacing of Pregnancy for the Health and Well-being of Mother and Child“, অর্থাৎ “সুস্থ মাতৃত্ব ও শিশুর জন্য পরিকল্পিত গর্ভধারণ ও সঠিক ব্যবধান অপরিহার্য।”
এই থিমের মাধ্যমে মাতৃত্বের সঠিক সময় ও প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে— শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির সঙ্গেই মাতৃত্ব হোক, এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। এবছরের স্লোগান—
“মা হওয়ার সঠিক সময় তখনই, যখন শরীর ও মন দুটোই প্রস্তুত থাকে।”
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, “এই দিনটি পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে জনসচেতনতা গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আমরা একটি সুস্থ ভারতের পথে এগিয়ে চলেছি— যেখানে প্রতিটি পরিবার সচেতন ও ক্ষমতায়নপ্রাপ্ত।”
তিনি আরও জানান, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির-সহ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সারা দেশে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার।
ভারতের জন্য বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের গুরুত্ব:
- বিশাল জনসংখ্যা:
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ (চীনের কাছাকাছি বা ইতিমধ্যেই ছাড়িয়ে গিয়েছে)। এই বিপুল জনসংখ্যা দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, পরিবেশ, এবং কর্মসংস্থান ব্যবস্থা—সব কিছুতেই গভীর প্রভাব ফেলে। - পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব:
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাতৃত্ব ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাস করা সম্ভব। এই দিবসটি সেই বার্তাই পৌঁছে দেয় সাধারণ মানুষের কাছে। - স্বাস্থ্য পরিসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধি:
সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন—মিশন পরিবার বিকাশ, আয়ুষ্মান ভারত, আশা প্রকল্প—এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা তৈরি হয়। - যুবশক্তির সঠিক ব্যবহার:
ভারতের এক বিরাট যুব জনসংখ্যা রয়েছে। যদি সঠিকভাবে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই জনসংখ্যা অভিশাপ নয়, “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড” হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
সারা পৃথিবীর জন্য এর গুরুত্ব:
- সম্পদের সীমাবদ্ধতা:
পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। অতিরিক্ত জনসংখ্যা জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, জল ও খাদ্যের সংকট তৈরি করতে পারে। - জলবায়ু ও পরিবেশের ভারসাম্য:
বাড়তি জনসংখ্যা কার্বন নিঃসরণ বাড়ায়, ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ত্বরান্বিত হয়। - বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা:
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অতিরিক্ত জনসংখ্যা মানে অপ্রতুল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, দারিদ্র্য ও অপুষ্টির প্রকোপ, যার প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। - স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (SDGs):
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)-এর অনেকগুলি লক্ষ্য—যেমন, দারিদ্র্য হ্রাস, লিঙ্গ সমতা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ, সবার জন্য শিক্ষা—এসবের সফল বাস্তবায়নের জন্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস কেবল সংখ্যা নয়, বরং গুণগত উন্নয়নের বার্তা দেয়।
ভারতের মতো দেশ যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সেখানে এই দিবসটির তাৎপর্য আরও গভীর। সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতার মাধ্যমে জনসংখ্যা দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে—এটাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের মূল বার্তা।