নিউজ ফ্রন্ট | কলকাতা | ১০ জুলাই ২০২৫
উত্তর কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে চিকিৎসকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মেহবুবা রহমান। চিকিৎসকের অভিযোগ, বিধায়ক OPD-তে নিয়ম লঙ্ঘন করে নিজের আত্মীয়াকে আগে চিকিৎসা করানোর জন্য চাপ দেন এবং কথা না মানায় হুমকি দেন। অপরদিকে, কাঞ্চন মল্লিক দাবি করেছেন, “চিকিৎসকই আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।”
ঘটনার বিবরণ: দুই পক্ষে ভিন্ন মত
বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক জানিয়েছেন, তাঁর দিদা-শাশুড়িকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ডাক্তার রহমান তাঁকে বলেন, “তিন-চারজন রোগী রয়েছে, তাঁদের দেখে নিয়েই আপনাকে সময় দেব।”
কাঞ্চনের দাবি, রোগীকে নিয়ে যখন তিনি ডাক্তারবাবুর কাছে যান, তখনই ডাক্তার রহমান প্রশ্ন করেন, “স্কিন বিভাগে তো দেখিয়েছেন, এখানে আবার কেন?” এর জবাবে কাঞ্চন বলেন, “আমায় আসতে বলা হয়েছে, তাই এসেছি। অন্তত প্রেসারটা দেখে নিন।”
এরপর ডাক্তার রহমান নাকি বলেন, “পেশেন্ট দেখব কি না, সেটা কি আপনি ঠিক করবেন?” তখনই কাঞ্চন ক্ষমা চান বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, “আমি তখন বলি, না না, সরি। আমার ভুল হয়েছে।”
কাঞ্চনের আরও অভিযোগ, প্রেসক্রিপশন নিয়ে তাঁর স্ত্রীর প্রশ্নে ডাক্তার রহমান বলেন, “আপনি কি এমবিবিএস ডাক্তার? প্রেসক্রিপশন করে দিন।” তখন কাঞ্চন বলেন, “এভাবে কথা বলছেন কেন? এটা কি অন্যায় যে একজন ৮৬ বছরের বৃদ্ধার ওষুধ নিয়ে চিকিৎসককে প্রশ্ন করা হচ্ছে?”
অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক রোগীর আত্মীয় দাবি করেন, ডাক্তার রহমান যখন একজন শিশুর চিকিৎসা করছিলেন, তখন হঠাৎ কাঞ্চন মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী রিপোর্ট দেখাতে যান। সঠিকভাবে উত্তর না পেয়ে তাঁরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
চিকিৎসকের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাওয়া হয়, এবং পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে উপস্থিত রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের প্রতিবাদে আউটডোর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন বিধায়ক ও তাঁর স্ত্রী।
ঘটনার পরে চিকিৎসক ডাঃ রহমান স্বাস্থ্য ভবনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশে যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চিকিৎসক সংগঠনগুলি। ‘Association of Health Service Doctors’ ও ‘West Bengal Doctors’ Forum’-এর তরফে মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে চিঠি দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।
এমনকী, তৃণমূল প্রগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের সভানেত্রী ও রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা এই ঘটনার নিন্দা করে বলেন, “চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদাকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত।”
চিকিৎসা পরিকাঠামোয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে, এই ঘটনা তার আরও একটি উদাহরণ।