লোকশিল্পীদের সম্মেলনে বাল্যবিবাহ রুখতে নতুন শপথ, জোর দেওয়া হল সাংস্কৃতিক প্রচারে

নিউজ ফ্রন্ট, লালবাগ, ৯ জুলাই:
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এবং লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে আজ মুর্শিদাবাদের লালবাগ সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হল জেলা ভিত্তিক লোকশিল্পী সম্মেলন। জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নেন জেলার পাঁচটি মহকুমা থেকে আসা প্রায় ৩০০ জন লোকশিল্পী।

উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) শ্রী চিরন্তন প্রামাণিক, লালবাগ মহকুমা শাসক ড. বনমালী রায়, জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক নীলাঞ্জন বিশ্বাস, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক প্রবাল বসাক এবং জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক অর্জুন দত্ত। এছাড়াও পাঁচটি মহকুমার এসডিআইসিওরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল লোকশিল্পীদের মাধ্যমে সমাজে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প, বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও স্কুলছুট সমস্যা রোধ সংক্রান্ত বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। অতিরিক্ত জেলা শাসক চিরন্তন প্রামাণিক বলেন, “সমাজে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে লোকশিল্পীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাল্যবিবাহ শুধু সামাজিক ব্যাধিই নয়, এটি এক অপরাধ। এটি নির্মূল না করতে পারলে অন্যান্য উন্নয়নও বাধা পাবে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১ মে থেকে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় বাল্যবিবাহের ঘটনায় রুজু হয়েছে ৫৮টি মামলা, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯৩ জনকে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে সম্মেলনে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় – কীভাবে লোকশিল্পীরা এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন।

জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক প্রবাল বসাক জানান, জেলার প্রতিটি কোণ থেকে গান লেখক, আলকাপ শিল্পী ও নতুন শিল্পীরা সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও স্কুলছুটের বিরুদ্ধে কার্যকর সাংস্কৃতিক প্রচারের লক্ষ্যে ব্যবহার করা হবে।

সম্মেলনের শেষে একগুচ্ছ শপথ পাঠ করা হয়, যেখানে ঘোষণা করা হয়— মুর্শিদাবাদ জেলা যেন আগামী দিনে বাল্যবিবাহ-মুক্ত ও স্কুলছুট-মুক্ত জেলায় পরিণত হয়। এই শপথে সামিল হন উপস্থিত সকল শিল্পী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

সম্মেলনটি শুধুই সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলনের দিশা দেখালো— যেখানে লোকসংস্কৃতি হয়ে উঠছে সচেতনতার শক্তিশালী হাতিয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *